সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও থাকছে না দলীয় প্রতীক

দেশের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রতীক ব্যবহার বন্ধ করে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৩৬তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিংয়ের পর ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে না। সব প্রার্থী নির্দলীয় হবেন, যা বর্তমানে স্বতন্ত্র নামে পরিচিত।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনও দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই বিধান বাতিল হলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নন, এমন অনেক যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী হবেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দল আগে স্থানীয় নির্বাচনের পক্ষে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার কাঠামোর নির্বাচনে এই পরিবর্তন এসেছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন পেয়েছে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’, ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এবং ‘উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ।