মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে প্রতারণা, সতর্কতা জারি

মালয়েশিয়ায় সাধারণ কর্মী পাঠানোর নামে কিছু প্রতারক চক্র বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট ও মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গতকাল শুক্রবার হাইকমিশন এই বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মী প্রেরণ-সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নেই। ফলে, সাধারণ কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের কোনো বৈধ চ্যানেল চালু নেই। যারা এ ধরনের ভুয়া প্রলোভনে পড়ছেন, তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

হাইকমিশন জানায়, মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকারিভাবে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। চুক্তি সম্পাদিত হলে তা হাইকমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও অন্যান্য মাধ্যমে জানানো হবে। হাইকমিশন সবাইকে ভুয়া প্রতিশ্রুতি ও প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো লেনদেন না করার পরামর্শ দিচ্ছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন নিয়োগ অনুমোদন করেছে। গত ৩১ মে, ২০২৪-এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের মধ্য থেকে নির্বাচিতদের কনস্ট্রাকশন ও ট্যুরিজম সেক্টরে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া।

গতকাল শুক্রবার কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মী আনতে চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) সত্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এজন্য ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) পোর্টালে চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য দাখিল করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে : কোম্পানির অনুমোদনপত্র (ম্যানেজার বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত), হাইকমিশনে জমাকৃত সত্যায়ন ফি-এর মূল ব্যাংক স্লিপ, চার-পাঁচজন কর্মীর সর্বশেষ বেতন স্লিপ, কোম্পানির প্রোফাইল (কোম্পানির বিবরণ, স্থানীয় ও বিদেশি কর্মীর সংখ্যা, দুই-তিনজন বাংলাদেশি কর্মীর মোবাইল নম্বর, বিগত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট)। ব্যাংক ব্যালান্সও পর্যাপ্ত হতে হবে যেমন-১০০ জন কর্মীর জন্য ন্যূনতম ২ লাখ মালয়েশিয়ান রিংগিত। এ ছাড়া ফরেন ওয়ার্কার্স কম্পেনসেশন স্কিম (সকসো), ফরেন ওয়ার্কার্স হাসপাতালাইজেশন ও সার্জিকাল স্কিমের নমুনা দলিল, কর্মীদের আবাসন-সংক্রান্ত জেটিকে সার্টিফিকেট, নির্মাণ চুক্তিপত্র, অঙ্গীকারনামা, ডিরেক্টরের স্বাক্ষরিত ডিমান্ড লেটার, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, নিয়োগপত্র, বোয়েসেল ও নিয়োগকারীর চুক্তিপত্র এবং মালয়েশিয়ার কর্র্তৃপক্ষের কোটা অনুমোদনপত্র দাখিল করতে হবে। অনলাইনে জমা দেওয়া কাগজের মূল ও ফটোকপি হাইকমিশনে জমা দিতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন এমওইউ অনুযায়ী নির্ধারিত কোটা, খরচ নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতির শর্তে এই নিয়োগ চলবে। মালয়েশিয়া সরকার ‘সিলেক্টিভ রিক্রুটমেন্ট মডেল’-এর আওতায় শুধু নিবন্ধিত ও সরকার অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিতে চায়।

বায়রার একজন শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দালাল চক্র যেন সুযোগ না পায়, তা নিশ্চিত করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ চাই।’

বাংলাদেশ সরকার কর্মীপ্রতি সর্বোচ্চ খরচ নির্ধারণ, নির্দিষ্ট সময়ে মেডিকেল ও ভিসা প্রসেসিং এবং নিয়োগকারীদের যাচাই বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার শোষণের অভিযোগ তদন্ত স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে, যা মালয়েশিয়ার অন্যতম দাবি ছিল। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বর্তমানে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকে আগেই চুক্তিভিত্তিক খরচ পরিশোধ করেছেন। এই খবরে হতাশাগ্রস্ত অনেক পরিবার আশার আলো দেখছে। ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় পাঁচ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য থাকলেও অনিয়ম, দালাল চক্র ও কোটা বাণিজ্যের অভিযোগে প্রক্রিয়া স্থগিত হয়।