কীসের ভিত্তিতে কমল সেটাও বিবেচ্য বিষয়

মার্কিন পাল্টা শুল্ক হ্রাসের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য উৎকণ্ঠা আপাতত কমল। এই শুল্ক ২০ শতাংশের বেশিও হতে পারত। সেটা না হয়ে যে ২০ শতাংশ হয়েছে, তা আমাদের জন্য স্বস্তির কারণ নিঃসন্দেহে। কিন্তু এই শুল্ক হ্রাসের জন্য আমাদের নানা বিষয়ে ছাড়ও দিতে হয়েছে। কী কী বিষয়ে ছাড় দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। ফলে কীসের বিনিময়ে এই শুল্ক কমল, সেটাও বিবেচ্য বিষয়। তবে আপতত এই শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি স্বস্তিদায়ক।

পাল্টা শুল্ক আরোপের পর থেকেই মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে আসছিল। সেই আলোচনার কিছু কিছু বিষয় গণমাধ্যমে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, শুল্ক কমানোর শর্ত হিসেবে বাংলাদেশ আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হবে। এর পাশাপাশি দেশটি থেকে গম, তুলা, সয়াবিন ও এলএনজির মতো পণ্য আমদানি বাড়ানোরও শর্ত রয়েছে। এসব শর্ত পরিপালনেরও একটা আর্থিক মূল্য রয়েছে। আরও যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো অস্পষ্টতা বিদ্যমান। কারণ এক্ষেত্রে বিষয়গুলো প্রকাশ না করার শর্ত রয়েছে। তবে কী কী শর্তে এই সিদ্ধান্ত হলো, সে বিষয়ে নাগরিকদের জানার অধিকার রয়েছে।

এসব বিষয়ের পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবও থাকতে পারে। শুল্ক কমানোর শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্ধারণ করে দেয় যে, চীন থেকে বাংলাদেশ কী কী আমদানি করতে পারবে বা পারবে না, কোন কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রাখা যাবে আর কোন দেশের সঙ্গে রাখা যাবে না এমন শর্ত যদি থাকে, তাহলে দেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থার ওপর তার প্রভাব দেখা দেবে। এসব বিষয় বৃহত্তর বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে বিভিন্ন দেশের ওপর এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এতে ডব্লিউটিও আরও দুর্বল হয়ে গেল। ডব্লিউটিও দুর্বল হলে ছোট দেশ যাদের দরকষাকষির সক্ষমতা কম, তারা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ডব্লিউটিওর ভূমিকা রাখার বিষয়টি সংকুচিত হয়ে পড়বে।

সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি