ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত নিহত হয়েছেন ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৫০ জন।
শনিবার (২ আগস্ট) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ৩১ জনের মধ্যে ১৬ শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। সবচেয়ে কমবয়সি নিহত শিশুটির বয়স ছিল মাত্র ২ বছর। নিহতদের স্মরণে শনিবার জাতীয় শোকদিবস পালন করছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানান।
জেলেনস্কির দাবি, রুশ বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাড়িঘর, আবাসিক ভবন, স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, চিকিৎসাকেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় ভবনসহ বিভিন্ন ধরনের ১০০টিরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী কিয়েভের আবাসিক এলাকার একটি বড় ৯ তলা ভবনের বিশাল অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংস্তূপগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা অনুসন্ধান তৎপরতা চালাচ্ছেন। আমরা এখনো জানি না কতজন মানুষ এসব ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়েছেন।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের অক্টোবরে শহরে বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশু নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটল। গত বছরের জুলাইয়ের পর থেকে এটিই ছিল সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণ, যেখানে ৩৩ জন নিহত হয়েছিল।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সে সময় বলেছিলেন, অভিযানে শুধু ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
অভিযানের ৮ মাসের মাথায় ২০২২ সালের অক্টোবরে কিয়েভে হামলা করে রুশ সেনারা। সেটি ছিল ইউক্রেনের রাজধানীতে রাশিয়ার প্রথম হামলা।
শুক্রবারের টেলিগ্রামবার্তায় জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সদ্য বিদায় নেওয়া জুলাই মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনে মোট ৫ হাজার ১০০টিরও বেশি গ্লাইড বোমা, ৩ হাজার আট শতাধিখ শাহেদ ড্রোন এবং প্রায় ২৬০টি বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে ১২৮টি ছিল ব্যালিস্টিক।