১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু এনসিএলে বরিশালের কোচ আশরাফুল 

সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ থেকে মাঠে গড়াবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টি সংস্করণ এনসিএল টি২০। শনিবার এনসিএল এর সমন্বয় সভা শেষে  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, '১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এনসিএল টি-২০। খেলা হবে চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে।'

সমন্বয় সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত এসেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এনসিএল টি-টোয়েন্টি শুরু হবে। খেলা হবে চট্টগ্রাম আর রাজশাহীতে। রাজশাহীতে খেলা আয়োজনটা মাঠ প্রস্তুত করা সাপেক্ষে। প্রথম রাউন্ডের খেলা হবে চট্টগ্রামে, দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে রাজশাহীতে। ফাইনালও হবে রাজশাহীতে। ফ্লাডলাইট না থাকায় সেখানে দিনের বেলাতেই খেলা হবে।

এনসিএল টি-২০ উপলক্ষ্যে ৬ আগস্ট অংশগ্রহণকারী ৮ দলের ম্যানেজারদের নিয়ে হবে সমন্বয় বৈঠক, ১২ তারিখ থেকে হবে ফিটনেস টেস্ট। ক্রিকেটারদের ইয়ো ইয়ো টেস্টে নুন্যতম কত নম্বর পেতে হবে সেটা নির্বাচকরা জানিয়ে দেবেন বলেই জানিয়েছেন আকরাম। সাবেক এই অধিনায়ক আরও জানিয়েছেন, এবারে ম্যাচ ফি বাড়ছে এনসিএলে, 'আগের বার ম্যাচ ফি ছিল ২৫-৩০ হাজার টাকা, এবারে ম্যাচ ফি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা।'

রিশালের এনসিএল দলে বেশ কিছু অনিয়মের খবর পতপত্রিকা মারফত জানতে পেরেছেন আকরাম খান। সেই সব অনিয়ম দূর করতে কিছু ব্যবস্থা ও কঠোর হুঁশিয়ারির কথাই জানিয়েছেন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, 'আমরা বরিশাল দলের সমস্যা গুলোর ব্যাপারে জেনেছি। (মোহাম্মদ) আশরাফুলকে বরিশাল দলের কোচ করা হয়েছে। সে ওই দলের হয়ে ২ বছর খেলেছিল। আর আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি ভবিষ্যতে যদি এমন অনিয়ম হয় তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।' বরিশাল দলে ফজলে মাহমুদ রাব্বি এবং সোহাগ গাজীর অন্তর্দ্বন্দ এবং এই নিয়ে একজন খেলোয়াড়কে আরেকজনের মৃত্যুহুমকি দেয়ার মত ঘটনা ঘটেছে। 

একই সঙ্গে আকরাম জানিয়েছেন, এনসিএলের আগে ২৭ আগস্ট চট্টগ্রামে শুরু হবে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার অধীনে রিজিওনাল টি-২০, যেখানে চট্টগ্রাম বিভাগের সবগুলো জেলার দল অংশ নেবে। '২৭ আগস্ট থেকে আমরা চট্টগ্রামে রিজিওনাল ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট করতে যাচ্ছি। এই আসরে চট্টগ্রাম বিভাগের সবগুলো জেলার দল অংশ নেবে। এই টুর্নামেন্টে স্পনসর করবে ইস্পাহানি গ্রুপ, এলিট পেইন্ট, ফর্টিস গ্রুপ, ওরিয়েন্টাল গ্রুপ ও এশিয়ান গ্রুপ।'

২০১০ সালে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসর মাঠে গড়ানোরও বছর দুয়েক আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট প্রচলনের জন্য  শুরু আগে এনসিএল টি-২০। এরপর বিপিএল শুরু হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে আর কোন টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা ছিল না। ২০২৪ সালে নতুন করে শুরু হয় এনসিএল টি-২০ এর যাত্রা। মূলত বিপিএলে বিদেশী ক্রিকেটারদের কারণে দেশীয় ক্রিকেটারদের অনেকেরই সুযোগ না হওয়া এবং টি-টোয়েন্টির দক্ষতা গড়ে না ওঠার কারণেই ঘরোয়া ক্রিকেট সূচীতে যুক্ত হয় এই আয়োজন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিলেটে হয়েছিল এনসিএল টি-২০ এর দ্বিতীয় আসর, যেখানে ফাইনালে ঢাকা মেট্রোকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল রংপুর বিভাগ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের কারণে সেই আসরে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের খেলা হয়নি। এবারও এশিয়া কাপের জন্য সঙ্গে সাংঘর্ষিক হচ্ছে এনসিএলের সূচী। এই নিয়ে আকরাম জানালেন, 'আমাদের তো টুর্নামেন্টটা করতে হবে। এই সময়টা ছাড়া আর সময় পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া এটা তো স্থানীয় ক্রিকেটারদের সুযোগ দেবার জন্য, আমার মনে হয় না আকর্ষণ কমবে। জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য তো আমরা বসে থাকতে পারব না।'

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের না পাওয়া গেলেও পূরণ হয়েছে আরেকটি দাবী। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের শর্ত ছিল এনসিএল টি-২০ যেন বিপিএলের প্লেয়ার ড্রাফটের আগে করা হয়, তাহলে বিপিএলের দল মালিকরা তরুণ ক্রিকেটাদের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে একটা ধারণা পাবেন। ঠিক যেমন ভারতে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি হয় আইপিএল নিলামের আগে। ডিসেম্বর থেকে সেপ্টেম্বরে এনসিএলের সূচী এগিয়ে আনায় বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নিয়েই যেতে পারবেন নিলামের টেবিলে।