বন্ধুত্বকে বাঁচিয়ে রাখি, যোগাযোগ যত্নে, ভালোবাসায়

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, ‘আমাদের রহস্যময়তার পরীক্ষণে প্রাপ্ত সবচেয়ে সৌন্দর্যময় জিনিসগুলো হলো শিল্প, বিজ্ঞান এবং বন্ধুত্ব।’

বন্ধু থেকে যে সম্পর্ক সৃষ্টি আসলে সেটাই বন্ধুত্ব। বন্ধু এক কথায় বলতে গেলে একজন মানুষ যার কাছে নিঃসঙ্কোচে নিজেকে প্রকাশ করা যায়। নিজের ভালোলাগা, মন্দ লাগা, ভালো থাকা, খারাপ থাকা সব অনায়াসে যে সম্পর্কের কাছে প্রকাশ করা যায় সেটাই বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

আমাদের বন্ধু অসংখ্য থাকে কিন্তু বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে হয় না। সবার কাছে আমরা নিজেকে ভেঙেচুরে প্রকাশ করতে পারি না। সব বন্ধুর সঙ্গে মনের মিল মতের মিল হয় না। বন্ধু সে-ই যে খারাপ পরিস্থিতিতেও সঙ্গে থাকে, চড়াই-উৎরাই, ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে যে সম্পর্ক বয়ে চলে প্রবাহমান নদীর মতো কিংবা প্রচন্ড ঝড়ে বিধ্বস্ত নগরীর মাঝে, কিংবা সমুদ্রের উত্থাল ঢেউয়ের বিপদসংকেত শুনেও যে হাত ছাড়ে না সে-ই তো বন্ধু।

বন্ধু, যার সঙ্গে দুঃখ-কষ্ট ভাগ করা যায়। বন্ধু মানে ভুল বুঝে ছেড়ে যাওয়া নয়, বন্ধুত্ব মানে শত ভুলের মাঝেও থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া। বন্ধুত্ব মানে মান-অভিমান মিটিয়ে নিয়ে মিলেমিশে থাকা। বন্ধুত্ব মানে ভুল সমীকরণের খাতা জুড়ে ভুল গণিতের সমাধান আনার চেষ্টা করা, বন্ধুকে সঠিক সমীকরণ শিখিয়ে দেওয়া। বন্ধু, যার সঙ্গে রেষারেষি নেই,  অহমিকার প্রতিযোগিতা নেই, অবিশ্বাস নেই। বন্ধুত্বকে ধরে রাখতে হয়, মানুষের যে কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অন্যতম মাধ্যম কথা বলা, দেখা করা, যোগাযোগ রাখা। যোগাযোগ ব্যতীত সব সম্পর্ক ফ্যাকাসে হয়ে যায় মানুষের সঙ্গে যতই যোগাযোগ কমে দূরত্ব তত বাড়ে। বন্ধুত্বের জন্য হলেও বন্ধুকে সময় দিন, বন্ধুত্বের জন্য হলেও বন্ধুর ভাগ রাখুন, এক কাপ চায়ে, একটা টোস্ট বিস্কুটে, একটা নাবিস্কো চকলেটে।

শত মান অভিমান অভিযোগ অনুরাগে তবুও শত বছর বন্ধু বেঁচে থাক যোগাযোগে!

কালের পরিক্রমায় অবহেলা অযত্নে কত বন্ধুত্ব মরে যায়। তাই আসুন বন্ধুত্বকে বাঁচিয়ে রাখি, যোগাযোগ যত্নে, ভালোবাসায়।

জেলি খাতুন

শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ