যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তীব্র বাগযুদ্ধের মধ্যেই চীনের সঙ্গে সাগরে যৌথভাবে কামান ও অ্যান্টি-সাবমেরিন মহড়া চালাচ্ছে রাশিয়ার নৌবাহিনী। রবিবার (৩ আগস্ট) রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স।
এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়ার কাছাকাছি ‘উপযুক্ত অঞ্চলে’ দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের ‘ডেড হ্যান্ড’ কৌশল ফিরিয়ে আনার মন্তব্যের জবাবে এ হুমকি দেন ট্রাম্প।
তবে রয়টার্স বলছে, এই মহড়া ট্রাম্পের পদক্ষেপের অনেক আগেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের বরাতে সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, রাশিয়া ও চীনের জাহাজগুলো একটি যৌথ বহরে চলাচল করছে, যাতে রয়েছে একটি বড় রাশিয়ান সাবমেরিন বিধ্বংসী জাহাজ ও দুটি চীনা ডেস্ট্রয়ার।
মহড়ায় দুই দেশের ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন অংশ নিচ্ছে, পাশাপাশি একটি চীনা সাবমেরিন উদ্ধারকারী জাহাজও অংশগ্রহণ করছে। ‘ম্যারিটাইম ইন্টারঅ্যাকশন-২০২৫’ নামে এই মহড়া চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত।
ইন্টারফ্যাক্স আরও জানায়, রাশিয়া ও চীনের সৈন্যরা কামান নিক্ষেপ, সাবমেরিন ও আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রে যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
রাশিয়া ও চীন ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে একটি ‘সীমাহীন কৌশলগত অংশীদারত্ব’ চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরপর থেকে তারা নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছে, যাতে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া যায়।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের অধিকারী। সাধারণত এ দুই দেশের কেউই পারমাণবিক সাবমেরিনের অবস্থান বা মোতায়েন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ না হওয়ায় তিনি ক্রমাগত হতাশা প্রকাশ করছেন এবং মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।