টাঙ্গাইলে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কার, আদালতে স্বীকারোক্তি

টাঙ্গাইল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ‘কিলার গ্রুপ, হত্যাকারী দল’ নামে চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত শনিবার ভোরে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছেন, দেড় মাস আগে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি অফিসে এক গোপন বৈঠকে ‘বিত্তবানদের কাছ থেকে কৌশলে চাঁদা আদায়ে’র পরিকল্পনা করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি সন্ত্রাসী নামে প্যাড তৈরি করে চিঠির মাধ্যমে চাঁদা দাবি করেন তারা। চিঠিতে লেখা ছিল, ‘চাঁদা দে, নইলে জীবন দে।’

গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে জবানবন্দি দেওয়া দুজন হলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্য সাব্বির মিয়া। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মামুন নিজ ল্যাপটপে চিঠি তৈরি করেন এবং বিত্তবানদের তালিকা তৈরি করে কয়েকজনের কাছে তা পাঠানো হয়।

তাদের মধ্যে এক মৎস্য খামার মালিক মো. আজাহার আলীর কাছে পাঠানো চিঠিতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার আজাহার আলী টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে আজাহার আলীর কর্মচারীর হাতে চিঠিটি তুলে দেয় এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। শুক্রবার চিঠিটি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা অভিযানে নামে। গত শনিবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদল কুমার চন্দ দুই আসামির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন এবং বাকিদের সঙ্গেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাত ৮টার দিকে তাদের জেলহাজতে নেওয়া হয়।

কারাগারে পাঠানো অন্য তিনজন হলেন টাঙ্গাইল শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জুবায়ের আহমেদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম রাব্বানী এবং সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মিয়া।

এ ঘটনায় জেলা বিএনপি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গত শনিবার রাতে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাঁদাবাজির অভিযোগে জুবায়ের আহমেদ, গোলাম রাব্বানী ও শাহ আলম মিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।