নতুন রাজনীতির পুরনো চিত্র

রাজনীতিবিমুখ প্রজন্মের তরুণরা জুলাই-আগস্টে গুলির সামনে বুক পেতে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক ভাবনা প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনেছে। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছাড়াই তারা এক স্বৈরশাসনের ইতি টেনেছে। এতে তৈরি হয়েছে নতুন ধারার রাজনীতির স্বপ্ন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল, সরকার হবে জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত আর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে দৃঢ়প্রতিশ্রুত। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই আশায় নেমেছে ধূসর ছায়া। অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন দলগুলো এখনো পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি, তারা আদৌ ভিন্ন কিছু। একই সঙ্গে পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোও পুরনো বৃত্ত ভাঙতে পারছে না।

রাজনীতিকদের এ দ্বন্দ্ব দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা বুঝতে চাচ্ছেন না দুদিন আগে আর পরে নির্বাচন হবে, নির্বাচিত সরকার আসবে। কিন্তু রাজনীতি না বদলালে রাজনীতিকরা অস্তিত্ব সংকটে পড়বেন। অতীতের মতো আবারও গণতন্ত্রের সুফল হাতছাড়া হতে পারে।

রাজনীতি বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক রক্ত, অনেক বেদনা, অনেক বিপর্যস্ত অসহায় পরিবারের আত্মদানের বিনিময়ে জন্ম নেয় নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। যে স্বপ্ন মুক্তিকামী আপামর জনতা বারবার এ দেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সংগ্রাম করেছে। আজ এক বছর যেতে না যেতেই সেই স্বপ্নভঙ্গের ছায়া যেন আমাদের গ্রাস করতে চলছে।’

গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপির বক্তব্যে যে নৈতিকতা ও সততার আবহ দেখা গিয়েছিল, তা মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু দ্রুত রাজনৈতিক ফাঁকা জায়গা পূরণের তাড়নায় তারা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণহারা। বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগে স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে। বহিষ্কার করেও দলটি এ ধারা থামাতে পারছে না।

বিএনপির দপ্তরের তথ্য বলছে, নানা ঘটনায় গত জুলাই পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৩ হাজার ২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মী রয়েছেন ১ হাজার ৮০০ জন। তাদের মধ্যে ৮০০ জনকে বহিষ্কার, ৫০ জনের পদ স্থগিত, অন্তত ৭০০ জনকে কারণ দর্শানো নোটিস, ১০০ জনকে সতর্ক এবং ১৫০ জনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিস দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে বহিষ্কার ও ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানো নোটিস দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ১০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার ও ১৫০ জন কারণ দর্শানো নোটিস পেয়েছেন। আর যুবদলের শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নবগঠিত এনসিপি যাদের হাত ধরে ‘নতুন রাজনীতির’ সূচনা, তারাও দ্রুত সেই পুরনো রাজনীতির খোলসে ঢুকে যাচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক জুলাই পদযাত্রা মাঠের চেয়ে ফেসবুকেই বেশি প্রচার পেয়েছে বলে কথা উঠেছে। উত্তরাঞ্চলের এক নেতার শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে শোডাউন, সমন্বয়কদের গুলশানে চাঁদা নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল ও চার সমন্বয়ক গ্রেপ্তার, ফেসবুকে দলটির নেতাদের পরস্পরকে বিদ্রুপ করা পোস্ট আর পাঁচতারকা হোটেলে ইফতার পার্টি এসব দেখে সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই কি নতুন বাংলাদেশ?

২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আত্মপ্রকাশের পর গত পাঁচ মাসে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতাদের বিভিন্ন অভিযোগে শোকজ দিয়ে দায় সেরেছে দলটি। ২০ মে রাতে ধানমন্ডির ৪ নাম্বার সড়কে মব তৈরি করে হাক্কানী পাবলিশার্সের মালিক গোলাম মোস্তফার বাড়িতে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ তাদের মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তাকে নোটিস দিলে জবাবে ভুল স্বীকার এবং আগামীতে ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে অঙ্গীকার করলে নোটিস প্রত্যাহার করা হয়। বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল ইসলাম মানিক, দলের যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক নিয়োগে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ, গত মে মাসে দৈনিক জনকণ্ঠ কার্যালয়ে এক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দলের যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশিরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে সতর্কবার্তা জারি, নিজের দলের এক কেন্দ্রীয় নারী সহকর্মীকে টেলিফোনে আপত্তিকর কথা বলায় যুগ্ম সদস্য সচিব সারওয়ার তুষারকে শোকজ, ২৭ জুন এনসিপির রাজশাহী জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম ওরফে সাজুকে ‘গুরুতর’ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়ে দায়িত্ব সেরেছে দলটি।

নানা অনৈতিক ঘটনায় জামায়াতে ইসলামও পিছিয়ে নেই। চাঁদা না দেওয়ায় নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মদপুর বাজারের ১০টি দোকানঘরে তালা লাগিয়ে দখল নেন জোয়াড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি রুহুল আমিনসহ চারজন। তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ফেনী মডেল থানার ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরার নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জাকির হোসেন নামে জামায়াত নেতা ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার গজারিয়া গ্রামের জহির আহমেদের ছেলে জাকির হোসেন জেলা জামায়াতের রুকন পদে ছিলেন। চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ছিলেন রিপন। তিনি দীর্ঘদিন উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে ব্যবসায়ী শ্যামল কান্ত গোপ থানায় অভিযোগ করেন। রিপনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কুড়িগ্রামে মামলা থেকে রক্ষার নামে বাবু মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজিবপুর উপজেলা সভাপতি আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে দলটির কিছু নেতার বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত, গণমুখী রাষ্ট্রের বদলে এক বছর পার না হতেই মানুষের আশার দেয়ালে স্পষ্ট চিড় ধরেছে। পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা তো ছিলই, এখন নতুন দল এনসিপির মধ্যেও পুরনো রাজনীতির উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বিশ্লেষকরা হতাশা প্রকাশ করছেন। তারা এটাকে ক্ষমতার লড়াই বলেই মনে করছেন।

অন্যদিকে, সংবিধান সংস্কার নিয়ে চলমান বিতর্ক রাজনৈতিক চর্চাকে তাত্ত্বিকভাবে সমৃদ্ধ করলেও দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্র এখনো দলপ্রধানকেন্দ্রিক। পরিবারতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতির বাইরে আসতে পারেনি তারা।

এখনো এ দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এক বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু দলটি তাদের মহাবিপর্যয় থেকেও শিক্ষা নেয়নি। ওবায়দুল কাদেরসহ প্রথম সারির নেতারা বিদেশে বসেই নিজেদের সাফাই গাইছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন তারা আগে দেশে এসে রাজনীতির সুযোগ চান। ভোট ডাকাতি, গুম, হত্যাকা-, ব্যাংক লুটপাটের জন্য ক্ষমা চাওয়া দূরের কথা এসব অভিযোগ তারা স্বীকার করতেই রাজি নয়। একই সঙ্গে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গণহত্যার বিচারের প্রশ্নেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান অস্পষ্ট। দলগুলোর হিসাবি কৌশলে তৈরি হচ্ছে অস্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ গভীর নজরে রয়েছে। চীন, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান যেকোনো মুহূর্তে কূটনৈতিক সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচনের ইঙ্গিত এলেও এর কোনো নির্দিষ্ট রোডম্যাপ এখনো দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সংশয় প্রকাশ করছে। নির্বাচন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে একটির পর একটি ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারি-এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন হবে কি না, সেই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। বরং রাজনীতির মাঠ পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে সরগরম রাখা হচ্ছে। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি মনে করছে, সংস্কার-বিচার ইস্যুতে নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী আরও কঠোর ভাষায় বলেছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কীসের? কী নির্বাচন হবে? এজন্য আগে নির্বাচনের পরিবেশ অবশ্যই তৈরি করতে হবে।’

অন্যদিকে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, আগে জুলাই হত্যাকা-ের বিচার ও সংস্কার, তারপর নির্বাচন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও সংস্কার, বিচার এবং পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে সংশয় বা অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। সংখ্যানুপাতিক (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতির বিরুদ্ধে বিএনপির তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতসহ কয়েকটি মিত্র দলের আসন ভাগাভাগি নিয়েও অস্থিরতা বিরাজ করছে।

কিছুদিন আগেও যে দলগুলোর মধ্যে নৈকট্য ছিল, আজ তা আর বহাল নেই। এক সপ্তাহ আগের সম্ভাবনা পাল্টে যাচ্ছে ‘না’তে। ছোট ছোট অনেক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। নতুন রাজনৈতিক মেরূকরণে এদের অবস্থান কী হবে তা অনিশ্চিত। যদিও অনেকের মতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বিভিন্ন দলের বিভিন্ন মত এবং কার্যকলাপ থাকতেই পারে।

গত বছর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বেশ কিছু অঘটন ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে সচিবালয়ে আনসারদের বিক্ষোভ, রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ডাকাতির চেষ্টা এবং গণপ্রতিরোধ, বিনা পরীক্ষায় পাসের জন্য একশ্রেণির ছাত্রের বিক্ষোভ, ঢাকার সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আন্দোলন-বিক্ষোভ, সচিবালয়ে আমলাদের বিক্ষোভ ও ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম এবং সচিবালয়ে রহস্যজনক অগ্নিকান্ডের মাধ্যমে বহু মূল্যবান নথিপত্র, কম্পিউটার ও আসবাবপত্র ভস্মীভূত করা এসবসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলাজনিত বহুবিধ ঘটনায় গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছিল, তা হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে হতাশার মেঘ গাঢ় হতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক চক্রের নতুন বছরের স্বস্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বাংলাদেশ এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে নেতৃত্বের সাহস, নৈতিকতা ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ ছাড়া ভবিষ্যৎ নির্মাণ অসম্ভব। জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না বাড়ালে, শুদ্ধ রাজনীতির পরিবর্তে পুরনো রাজনৈতিক পদ্ধতিই ফিরে আসবে। আর তখন এই ‘নতুন’ রাজনীতির গল্প হবে শুধু ব্যানারে লেখা সেøাগান, বাস্তবে পুরনো রাজনীতিরই পুনরাবৃত্তি। বাংলাদেশের মানুষ চায় বান্তবতা, একটি নৈতিক, জবাবদিহিমূলক ও জনগণের রাজনীতি।

শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তাতে হেয়ার ক্র্যাক দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এ ক্র্যাক বড় ধরনের ফাটলে পরিণত হতে পারে। এই মুহূর্তের রাজনৈতিক বিতর্ক হলো (ক) সংস্কার ও নির্বাচনের তুলনামূলক প্রাধান্য নিয়ে; (খ) বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দূরত্ব নিয়ে; (গ) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে। দেখা যাচ্ছে, এই মুহূর্তের রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডাররা একে অন্যের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক রেখে চলতে পারছেন না। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকলে মতপার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। তবে মতান্তর যদি মনান্তরে পরিণত হয়, তাহলে ভয়াবহ বিপদ দেখা দিতে পারে।’