এফডিআই প্রণোদনা স্কিম নীতিমালা-২০২৬ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ এএম

প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সব বাংলাদেশি নাগরিককে প্রণোদনার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনতে উৎসাহিত করতে নীতিমালা করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রণোদনা স্কিম নীতিমালা-২০২৬’ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার  সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নবম বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সব বাংলাদেশি নাগরিককে এফডিআই আনতে অবদান রাখার লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রণোদনা স্কিম নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুনাফাভিত্তিক (ফর-প্রফিট) বা অ-মুনাফাভিত্তিক (নট-ফর-প্রফিট) কোম্পানি বা সংগঠন গঠন এবং এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অর্জনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ আকৃষ্টে ‘রোডশো’ হবে : দেশের বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কল-কারখানায় বিনিয়োগ আকৃষ্টে ‘রোডশো’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বন্ধ কল-কারখানা চালুসংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভা শেষে গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ ও অলাভজনক কল-কারখানা চালুর বিষয়ে বৈঠক করেছেন। ওই সব কল-কারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোডশো’র আয়োজন করবে সরকার। সভায় এই লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বন্ধ কারখানা চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করে তুলতে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ নেওয়া হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।

এ সময় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমানসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ : সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির মধ্যে চলমান সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গণমাধ্যমকে এসব কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও শ্রমবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং ইউএনডিপির স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এক্সটার্নাল রিলেশনস স্পেশালিস্ট কীর্তিজাই পাহাড়ি এবং হেড অব গভর্ন্যান্স আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আট সদস্যের কমিটি গঠন : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিস্তা অববাহিকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর একটা বৈঠক হয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি, দ্রুত এ ব্যবস্থাপনাটাকে কীভাবে শেষ করা যায়। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করেছেন। আমরা এর পাশাপাশি আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি করেছি। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই তারা একটা রিপোর্ট দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা সেটা নিয়ে আবার বসব। আমরা এটা খুব দ্রুততার মধ্যে করতে চাচ্ছি।’

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত