রাজধানীতে ৭৫ বয়সী নুরজাহান বেগমের গলিত লাশ উদ্ধারের অমানবিকতার ক্ষত শুকানোর আগেই একই এলাকার আরেক বাসা থেকে উদ্ধার হয়েছে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ। গত বুধবার মিরপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ সেলিনা আফরোজ নামে আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, মরদেহটিতে পচন ধরেছে। তার স্বামী মমিনুল হক ও সন্তানরা কানাডা প্রবাসী।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক জানান, ‘পল্লবীর সেকশন ৬ এলাকার ১০ নম্বর সড়কের একটি বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ৯৯৯-এ খবর পাই। এরপর লাশটি উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাই। লাশ দেখে মনে হয়েছে, বেশ কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
পুলিশ জানায়, সেলিনা আফরোজ ১০-১২ বছর আগে কানাডা থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং ওই বাসার একটি ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করতেন। তার আরেক বোন ওই ভবনের চার তলায় থাকতেন। গত ২৬ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সেলিনা আফরোজের সঙ্গে তার ভাতিজা আশফাকুর রহমানের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর তার সঙ্গে আর কারও যোগাযোগ হয়নি।
এর আগে গত রবিবার ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরের একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে নুরজাহান বেগমের পচা-গলা ও পোকা ধরা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে বৃদ্ধার সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি করেন।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচএম সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাতে কমিশন ঘটনাটি তদন্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।
এ ছাড়া রিটে মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিচে নন, এমন একজন বিচারিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উন্নত দেশগুলোর মতো বয়স্ক ও অচল নাগরিকদের জন্য সরকারিভাবে সেবিকা (নার্স) নিয়োগের বিধান বা প্রথা রয়েছে। বাংলাদেশের সমাজসেবা বা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রবর্তনের নির্দেশনাও রিটে চাওয়া হয়েছে।
