বিএনপির বিজয় মিছিলে দুর্বৃত্তের হামলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই বিপ্লব দিবস উপলক্ষে মাদারীপুর জেলা বিএনপির বিজয় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় মারাত্মক জখম হয়েছেন দৈনিক আমার বার্তার জেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম লিখন মুন্সি ও তার আপন দুই ভাই। গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে মাদারীপুর শহরের ডিসি ব্রিজ এলাকায় মিছিল আসলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাদের কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় লিখন মুন্সি ও সোহাগ মুন্সিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহতদের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়,  বেলা পৌনে ১২টার দিকে জেলা বিএনপির উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব দিবস উপলক্ষে একটি বিজয় মিছিল নিয়ে শকুনী লেকপাড় থেকে ইটেরপুলের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মিছিলটি ডিসি ব্রিজ এলাকায় আসলে মিছিল থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র দিয়ে লিখন মুন্সিকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তাকে বাঁচাতে আসলে লিখনের দুই ভাই মিলন মুন্সি ও সোহাগকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে লিখন ও সোহাগের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার সময় মিছিলের পাশেই মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। কিন্তু তাদের তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে সাংবাদিকের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। তারা অবিলম্বে দোষীদের বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে আহত মিলন মুন্সি বলেন, ‘আমার ভাইকে অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছিল সন্ত্রাসীরা। পরে আমি ও আমার আরেক ভাই তাকে বাঁচাতে গেলে আমাদের কুপিয়ে জখম করেছে। আমি অনেককেই চিনি। আপাতত তাদের নাম বলব না। তবে তাদের নামে মামলা করা হবে। এ ঘটনায় আমার আরেক ভাই শ্রমিক দলের নেতা সেলিম মুন্সি দূরে থাকায় তাকে কোপাতে পারেনি।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শ্রমিক দলের নেতা মোফাজ্জেল মুন্সির ছেলে শাকিল মুন্সি হত্যা মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম লিখন মুন্সি ও তার আরেক ভাই। এ ঘটনার জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে। এরই মধ্যে চিহ্নিত কিছু লোকদের ধরার চেষ্টা চলছে। আর সদর থানা পুলিশ ঘটনার কাছে থাকলেও তারা আসার পূর্বেই কোপানোর ঘটনা ঘটেছে।’