চলতি বছর ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোটের দুই মাস আগে আমরা তফসিল ঘোষণা করব। আপনারা ধরেই নিতে পারেন এই তফসিল ঘোষণার কাজটা ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই হবে। নির্বাচন রোজার আগে করতে হবে। রোজা যদি হয় ১৮ তারিখ, তাহলে দু-চার দিন সময় লাগবে নতুন সরকারকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। শপথগ্রহণ রয়েছে। তার আগে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের যে তারিখ হবে, তার থেকে ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বাইরে ও দেশের ভেতরে পোস্টাল ভোটিং নিয়ে কথা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে যারা ভোট দেবেন, সেটা নিয়ে। প্রবাসে যারা আছেন, তাদের ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে চাই এবং এবারের মাধ্যমটা হবে পোস্টাল ব্যালটে। আমরা অতীতে দেখেছি, সময়ের অভাবে পোস্টাল ব্যালট থাকলেও ভোট সংগ্রহ করা সম্পন্ন হয়নি। এমতাবস্থায় যে পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করতে যাচ্ছি, প্রবাসীদের কাছে সিম্বল ব্যালট যাবে সেটাই হবে তাদের পোস্টাল ব্যালট। সেখানে যতগুলো সিম্বল থাকা দরকার, সেগুলো থাকবে। যাতে করে আমরা এই ট্রাভেল টাইমটা কমাতে পারি।’ তিনি বলেন, প্রবাসীরা ভোট দেবেন প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়ার পর। সেভাবে তাদের নির্দেশনা দেওয়া থাকবে। ওনারাও সেভাবে ডিক্লারেশন দেবেন। ভোট দেওয়ার পর এটি ফেরত আসবে।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক আসনের পোস্টাল ব্যালটের জন্য একজন করে সহকারী রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন।
তিনি পোস্টাল ব্যালটের ভোটগ্রহণের কাজটি নির্বাচন কমিশন ও পোস্ট অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। বাকি পারসোনালাইজেশন (ভোটারের ঠিকানা, কোড দেওয়া) কাজগুলো তিনিই সম্পন্ন করবেন। পুরো অপারেশন পোস্ট অফিস সম্পন্ন করবে।’
পোস্টাল ব্যালটের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া তফসিলের অনেক আগে থেকে শুরু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় একটু সময় লাগবে। এ কাজে আনুমানিক তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। প্রবাসীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন ভোট দেওয়ার জন্য।
দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে তিন ধরনের ভোটার আছেন, যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারেন। যেমন সরকারি কর্মচারী, ভোট ব্যবস্থাপনায় যারা জড়িত, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা। তাদের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু থাকবে। একই ব্যালট পেপার তাদেরও সরবরাহ করা হবে। আমরা আশা করছি, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশের ভেতরে এবং বাইরে উল্লেখযোগ্য ভোট এবার আমরা আনতে পারব।’
চ্যালেঞ্জ আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, যদি কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা শেষ মুহূর্তে আদালত কর্র্তৃক বাতিল হয়, তাহলে সেই আসনের পোস্টাল ব্যালটগুলো বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ন্যূনতম সময়ের আগে যেন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, এটি ব্যয়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। আনা-নেওয়ায় প্রতি ব্যালটে ৫০০ টাকা খরচ হবে। এরপর ছাপানোর খরচও আছে। প্রতি এক লাখ ভোটারের জন্য সব মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা লাগবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেছেন। এর আলোকে আমরা আলোচনা করেছি কত তারিখ পর্যন্ত ভোটারকে আমরা সন্নিবেশ করতে পারব। ভোটার তালিকা আইনেও আমরা সামান্য সংশোধন করেছিলাম। এখন আমরা বছরের মাঝামাঝি থেকেও ভোটারদের নিতে পারব। নবীন ভোটারদের জন্য একটি সুখবর। প্রাথমিকভাবে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হবে, তাদের আমরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করব। এতে ১৮ থেকে ২০ লাখ তরুণ ভোটার যোগ হতে পারেন। তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আচরণ বিধিমালায় এআইয়ের অপব্যবহার আমরা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছি। ডিসইনফরমেশন ছড়াতে এআইয়ের ব্যবহার বেশি করা হয়।’
ড্রোন ব্যবহারের বিষয়ে ইসি বলেন, প্রার্থী, পর্যবেক্ষক বা গণমাধ্যম কেউই ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের যদি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটি বিবেচনা করে দেখবে। ভোটে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে গবেষণা করা হচ্ছে।