জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে ভর্তি চেষ্টার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হতে আসা এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ওবায়েত হাসান আফিক, তার সহযোগী পনির উদ্দিন খান পাভেল এবং চক্রের আরেক সদস্য সালমান ফারদিন সাজিদ সিয়ামকে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওবায়েত হাসান আফিকের চেহারা ও স্বাক্ষর প্রবেশপত্রের সঙ্গে না মেলায় এবং ভাইভায় সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রক্সি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে তার সঙ্গে আসা পনির উদ্দিন পাভেলের ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ভর্তি সংক্রান্ত লেনদেনের প্রমাণ মেলে।
পাভেলের মোবাইল ঘেঁটে শতাধিক ভর্তিচ্ছু ও চাকরি প্রার্থীর ছবি ও প্রবেশপত্র পাওয়া যায়। তার ফোনে কল করে “ভর্তির কি অবস্থা ভাই” বলায় পরিচয় মেলে সিয়াম নামের এক শিক্ষার্থীর, যিনি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ছাত্র।
জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম স্বীকার করে, সে ১ লক্ষ টাকা চুক্তিতে কৌশিক কুমার চন্দ নামের একজনের হয়ে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়েছে। বর্তমানে কৌশিক নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।
সিয়ামের মোবাইলে আরও একাধিক শিক্ষার্থীর ভর্তির তথ্য এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একজনের ওএমআর শিটের ছবি পাওয়া যায়। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে, সিয়ামের মাধ্যমে তার বন্ধু শান্ত ভূঁইয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় পাভেলের। শান্ত বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ছাত্র।
অন্যদিকে পাভেল দাবি করে, ‘বাবু টঙ্গী’ নামে এক ব্যক্তি প্রক্সি ও ভর্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। কৌশিককে ভর্তি করাতেও বাবু সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন বলে জানায় সে।
আটক তিনজনের মধ্যে ওবায়েত ত্রিশালের বাসিন্দা, পাভেল ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার এবং সিয়াম ও শান্ত শহরের বাসিন্দা। তদন্তে আরও জানা গেছে, ওবায়েত, কৌশিক ও পুণ্য দেব মৃদুল—এই তিনজনের প্রক্সি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
এ ঘটনায় গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, কিছু নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রের নিরাপত্তা ঘাটতি ও জামালপুর কেন্দ্রে সক্রিয় জালিয়াত চক্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আমাদের সতর্কতা ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টাতেই বিষয়টি ধরা পড়েছে। তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”