সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের গৃহহীন-বিষয়কমন্ত্রী রুশনারা আলী। গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশনারা পূর্ব লন্ডনে তার বাড়িটি বিক্রির কথা জানিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বর্তমান ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চুক্তি শেষ করেন। তবে বিক্রির বদলে ৭শ পাউন্ড বাড়িয়ে বাড়িটি আবারও ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যদিও রুশনারা নিজেই এ ধরনের কাজকে ভাড়াটে অধিকার বিলের অধীনে অবৈধ বলে ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে, গৃহহীনদের সহায়তায় কাজ করা দাতব্য সংস্থা ও বিরোধী রাজনীতিবিদরা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেন রুশনারা আলী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচবারের ব্রিটিশ এমপি তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে রুশনারা বলেন, আমি সব সময় প্রয়োজনীয় আইনি বিধিবিধান মেনেই কাজ করেছি; তবে তিনি মনে করেন, মন্ত্রী হিসেবে তার পদে থাকা সরকারের উচ্চাকাক্সক্ষী কাজের জন্য একটি বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে যখন রুশনারা আলী তার ভাড়াটিয়াদের নির্দিষ্ট মেয়াদে চুক্তি বাতিল করেন, কারণ দেখানো হয় যে তিনি বাড়িটি বিক্রি করতে চান। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই তিনি সেই বাড়িটি আবার ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত করেন, তাও মাসিক ভাড়া ৭০০ পাউন্ড বেশি দেখান। অথচ তিনি বর্তমানে যে ‘ভাড়াটিয়াদের অধিকার সংক্রান্ত বিল’-এর পক্ষে কাজ করছেন, তাতে এই ধরনের আচরণ নিষিদ্ধের প্রস্তাব রয়েছে। পদত্যাগপত্রে রুশনারা আলী লিখেছেন: ভারাক্রান্ত মনে আমি মন্ত্রী হিসেবে আমার পদত্যাগপত্র আপনাকে জমা দিচ্ছি। তার পদত্যাগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার তাকে ধন্যবাদ জানান এবং তার কাজকে পরিশ্রমী বলে প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে গৃহহীনদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ‘ভ্যাগ্র্যান্সি অ্যাক্ট’ বাতিলের জন্য তার অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, আমি জানি আপনি ব্যাকবেঞ্চে থেকেই সরকারকে সমর্থন দেবেন এবং বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনির জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করবেন।
রুশনারা আলীর পদত্যাগটি বিশেষভাবে বিব্রতকর, কারণ এটি এমন এক বিষয়কে ঘিরে; যা নিয়ে লেবার পার্টি নির্বাচনের সময় ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়াটিয়াদের অধিকার আরও শক্তিশালী করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যেসব নিয়ম বর্তমানে তারা পার্লামেন্টে পাস করার পথে রয়েছে, সেগুলোই আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মতো কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সক্ষম হতো। সরকারের ‘ভাড়াটিয়াদের অধিকার বিল’ এখন পার্লামেন্টে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এতে একটি বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যদি বাড়ি বিক্রির উদ্দেশ্যে কোনো ভাড়াটিয়া চুক্তি শেষ করা হয়, তাহলে বাড়িটি পরবর্তী ছয় মাসের জন্য পুনরায় ভাড়ার তালিকায় তোলা যাবে না। নতুন আইন পাস হলে যা কমপক্ষে আগামী বছর পর্যন্ত প্রত্যাশিত মালিকদের ভাড়াটিয়াদের চার মাস আগে নোটিস দিতে হবে।