এই পুলিশ বাহিনী দিয়ে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বছর পার হলেও পুলিশ বাহিনীর কোনো সংস্কার হয়নি। এই বাহিনী সঠিকভাবে একটি নির্বাচন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনগণের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’ গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন ও আমাদের নতুন বাংলাদেশ নামের দুটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ‘গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি : দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান সরকারের কাছে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার অন্যতম আকাক্সক্ষা ছিল। কারণ বিগত সময়ে দেশে পুলিশ বাহিনী একটি পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশ একটি পুলিশ স্টেটে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু একটি বছর পার হলেও পুলিশ বাহিনীর কোনো সংস্কার করা হয়নি। এই বাহিনী সঠিকভাবে একটি নির্বাচন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনগণের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, র‌্যাবকে নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে না, তাহলে এই বাহিনীকে রাখা হলো কেন?’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী জামায়াতে ইসলামী নতুন নতুন মত নিয়ে হাজির হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা জুলাই ঘোষণাপত্র তুলে ধরার পর দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে জাতীয় ঘোষণাপত্রে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাকে অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়নি। তারা ভেবেছে যে বাংলাদেশের মানুষের স্মরণশক্তি খুবই দুর্বল। তারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। এখন তারা নতুন নতুন মত নিয়ে হাজির হয়। নির্বাচন বিলম্বিত হয় কিংবা নির্বাচন যাতে না হয়, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা কাম্য নয়।’

হাফিজ বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাই সংস্কার নিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের মানুষ এত দিন ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু কিছু দল ধরে নিয়েছে, নির্বাচন হলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, তারা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে পিআর সিস্টেমের কথা বলে। আমি মনে করি, আগামী নির্বাচন বিদ্যমান পদ্ধতিতে আয়োজন করা উচিত, যাতে মানুষ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘ভারতে বসে শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে  দেশ অস্থিতিশীল করতে নানা কূটচালের পরিকল্পনা করেছে। এজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

সভায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যবস্থা নিজেই একটি স্বৈরাচারীব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মধ্যে যেই ক্ষমতায় যায়, তাকেই স্বৈরাচারী বানিয়ে দেয়। চব্বিশের অভ্যুত্থান বড় ঘটনা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যারা নিজেদের বদলাতে পারবে না, আগামী দিনে তারা আর প্রাসঙ্গিক থাকবে না। নতুন ব্যবস্থার জন্ম এখন একটা অনিবার্য ঘটনা। এটা ঘটতেই হবে। কাজেই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে যারা নিজেদের পরিবর্তন করতে পারবে, তারাই আগামী দিনে প্রাসঙ্গিক থাকবে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি জহিরুল হক। বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান, সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতি গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ প্রমুখ।