গাজা দখলের সিদ্ধান্ত সমালোচনা তোয়াক্কা করছে না ইসরায়েল

গাজা দখলের সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এর বাস্তবায়ন হলে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গুতেরেসের মুখপাত্র এসব কথা বলেন। তবে গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েও পিছু হটছে না ইসরায়েল। বরং নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত পরিকল্পনাকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। এদিকে, গাজায় নিহতের মিছিল বেড়েই চলেছে। গতকাল শনিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, অনাহারে ১০ জনসহ উপত্যকাটিতে অন্তত ২১ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি হয়েছে। এ নিয়ে অপুষ্টি-অনাহারে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২১২ জনে।

গুতেরেসের বিবৃতিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। এতে ইতিমধ্যে গুরুতর পরিস্থিতিতে থাকা ফিলিস্তিনিদের পরিণতি আরও মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এর ফলে, বাকি জিম্মিসহ অনেক মানুষের প্রাণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে ফিলিস্তিনিদের ভোগান্তির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তবে গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনার পর আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ইসরায়েলের নিন্দা জানানো বা নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে কেউ তাদের সংকল্প দুর্বল করতে পারবে না।  আমাদের শত্রুরা দেখবে, আমরা এক শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ মুষ্টি হয়ে তাদের ওপর প্রবল আঘাত হানব।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার অনুমোদিত পরিকল্পনায় যুদ্ধ শেষ করার পাঁচটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো হামাসকে নিরস্ত্র করা, সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা, গাজা উপত্যকা সামরিকীকরণমুক্ত করা, নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষের বাইরে একটি বিকল্প বেসামরিক প্রশাসন গঠন করা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রথম ধাপে গাজা সিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর কেন্দ্রীয় গাজার শরণার্থী শিবির ও বন্দিদের অবস্থান সন্দেহভাজন এলাকাগুলো দখলে নেওয়া হবে। কয়েক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ধাপের অভিযান শুরু হবে। সঙ্গে মানবিক সহায়তা বাড়ানো হবে। এদিকে, গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।