চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়া ও বে টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগ সম্পন্ন করতে চায় সরকার। আর এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্রের কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চার নম্বর গেটে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ম্যাগনেটিজম টেক লিমিটেডের পরিচালিত শিপিং ও লজিস্টিক্স অনলাইন ডেস্কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আশিক মাহমুদ চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) অপারেশনের দায়িত্ব নেওয়া রেড সি গেটওয়ের (আরএসজিটি) বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আরএসজিটি আমাদের দেশে প্রথম প্রাইভেট অপারেটর হিসেবে এসেছে। ডিপি ওর্য়াল্ড বা এপিএমের মতো ৬০-৭০টি দেশে অপারেট করার অভিজ্ঞতা তাদের নেই। তবে বেশ কিছু দেশের বন্দরে তারা অপারেট করছে। কিন্তু আরএসজিটির যে অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশে সেটা একদমই সুখকর না।
তিনি বলেন, অনেক ধরনের জটিলতার মধ্যে ওনারা (আরএসজিটি) পড়েছে। এর একটা বড় কারণ হলো আমাদের সাইটে, বাংলাদেশ সরকার কখনো ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে ডিল করেনি। পরে আমরা আসার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমরা তাদের অভ্যস্ত করার চেষ্টা করছি। তবে অনেকগুলো ধাপে গিয়ে জিনিসগুলো আটকে গেছে। সেগুলো সমাধান করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ থেকে ঋণ নিতে চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আরএসজিটি কাজের যে প্রবৃদ্ধি আশা করেছিল, সে পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়নি। তারা স্থানীয় উৎসের অর্থায়ন নেবে, নাকি আন্তর্জাতিক উৎস থেকে নেবে, সেটা পুরোপুরি তাদের আর্থিক কাঠামোগত সিদ্ধান্ত। তারা যদি বাংলাদেশ থেকে ঋণ নেয়, তাহলে বাংলাদেশকে ঋণের অর্থ ফেরত দেবেন। এমন না যে, বাংলাদেশ থেকে ঋণ নিলে টাকা দেশের বাইরে চলে যাবে। এটি ব্যাংকিং রেগুলেশনওয়াইজ পসিবল।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনায় চিটাগাং ড্রাইডট লিমিটেড (সিডিডিএল) একটি উদাহরণ সেট করেছে উল্লেখ করে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, যখন এপ্রিল-মে মাসে এসেছিলাম, তখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, দেশে একটা অপারেটর তো খুব ভালো করছে। তারা ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন টিইউএস হ্যান্ডল করছে। তাহলে কেন আপনারা শুধু শুধু বলছেন, এখানে অপারেটর বদলাতে হবে। এখন তো আমরা পরিবর্তন করে প্রমাণ করলাম যে, পরিবর্তন করা ঠিক ছিল। সিডিডিএল গত বছরের চেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডল করবে। এই টার্মিনালে আইএফসির রিপোর্ট অনুযায়ী ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডল করা সম্ভব। প্রযুক্তি ও উত্তম চর্চা চালু করা গেলে এর চেয়ে ওপরে নেওয়া যাবে।
নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলে এসেছি, চট্টগ্রাম বন্দরকে বৈশি^ক র্যাংকিংয়ে একদম ওপরের দিকে থাকতে হবে। এজন্য বেস্ট অপারেটর নিয়ে আসতে হবে। সংস্কার করা হচ্ছে বন্দরের ভেতরে। একটু আগে একটি সফটওয়্যার উদ্বোধন করলাম। অটোমেশন করলে দুটি সুবিধা আছে সশরীর যে কাগজ জমা দিতে হয়, সেটির বদলে বাটন টিপে জমা দিতে পারছেন। সময় কমে আসছে। সবসময় দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ পাই। সেটাও কমে আসবে। বাটন ক্লিক করে পেমেন্ট করে দিচ্ছেন। করাপশন ইনডেক্সে সিগনিফিকেন্টলি ইমপ্রুভমেন্ট আসবে। যত বেশি অটোমেশন করা যাবে, তত বড় সুযোগ পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, সকালেও ফাইভজি এমওইউ স্বাক্ষর করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেখানেও দেখলাম টেকনোলজি কীভাবে ইনভলভ করতে পারি। একসময় আমরা হয়তো এআই ইমপ্লিমেন্টেশন দেখতে পাব। যখন ফাউন্ডেশন রেডি হয়ে যাবে। আমরা দেখতে চাই যে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বন্দরের ক্যাপাসিটি চার-পাঁচ গুণ বেড়ে যাবে।
এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।