বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার (এসপি) এবং পরিদর্শক পদের পলাতক ৪০ পুলিশ কর্মকর্তার প্রাপ্ত ৮১টি পদক বাতিল করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পিপিএম, বিপিএম, পিপিএম-সেবা ও বিপিএম- সেবা পদক। গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ৭ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পদকগুলো প্রত্যাহার করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইতিমধ্যে নিজ কর্মস্থল থেকে পলায়ন করায় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এরূপ ৪০ জন পুলিশ সদস্যের অনুকূলে প্রদত্ত পদক প্রত্যাহার করা হলো।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের ডিআইজি ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সৈয়দ নুরুল ইসলামের ২০১০ সালে প্রাপ্ত পিপিএম পদক এবং ২০১৩ ও ২০১৭ সালের বিপিএম-সেবা পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের ২০১২ ও ২০১৩ সালে পিপিএম-সেবা এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিপিএম-সেবা পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে তার পুলিশ পদক প্রত্যাহার করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের ডিআইজি ওএসডি নূরে আলম মিনা ২০১২ সালে পিপিএম-সেবা ও ২০১৭ সালে বিপিএম পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইতিপূর্বে তারও ২০১৮ সালে প্রাপ্ত পুলিশ পদক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকারের প্রাপ্ত ২০১৩ সালের পিপিএম-সেবা এবং ২০১৫ ও ২০১৮ সালে প্রাপ্ত বিপিএম-সেবা পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি এসএম মেহেদী হাসানের প্রাপ্ত ২০১১ ও ২০১৭ সালে প্রাপ্ত পিপিএম-সেবা এবং ২০১৩ ও ২০১৮ সালে প্রাপ্ত বিপিএম-সেবা পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি ওএসডি সঞ্জিত কুমার রায়ের ২০২২ সালে প্রাপ্ত পিপিএম-সেবা পদক, জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি ওএসডি মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের ২০১৪ সালে প্রাপ্ত পিপিএম-সেবা, রাজশাহী রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জির ২০১৯ সালে প্রাপ্ত পিপিএম-সেবা, জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ সুপার (এসপি) ওএসডি (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) রিফাত রহমান শামীমের ২০২৩ সালের পিপিএম-সেবা, জননিরাপত্তা বিভাগের এসপি (ওএসডি) কাজী আশরাফুল আজীমের ২০২৩ সালে প্রাপ্ত পিপিএম-সেবা পদক, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দারের ২০১২ সালের বিপিএম-সেবা, ২০১৭ সালের পিপিএম ও ২০১৮ সালের বিপিএম, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর ২০১৮ সালের বিপিএম-সেবা ও ২০২২ সালের পিপিএম-সেবা পদক, একই ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের ২০১৮ সালের পিপিএম-সেবা ও ২০২৩ সালের বিপিএম, রাজশাহী রেঞ্জের সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আয়েশা সিদ্দিকার ২০১২ সালের পিপিএম-সেবা ও ২০২১ সালের বিপিএম-সেবা পদক, রাজশাহীর সারদায় সংযুক্ত এসপি মো. আসাদুজ্জামানের ২০০৮ ও ২০১৩ সালের পিপিএম-সেবা, ২০২৩ সালের বিপিএম-সেবা পদক, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত এসপি মো. শাহজাহানের ২০১৫ সালে প্রাপ্ত পিপিএম-সেবা, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত এসপি মো. ছানোয়ার হোসেনের ২০০৯ সালে প্রাপ্ত পিপিএম-সেবা, ২০১২ সালের পিপিএম-সেবা ও ২০১৫ সালের বিপিএম-সেবা পদক, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত এসপি মানস কুমার পোদ্দারের ২০০৯ ও ২০১১ সালের পিপিএম-সেবা, একই রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেলের ২০১১ ও ২০১৭ সালের পিপিএম-সেবা ও ২০২৩ সালের বিপিএম-সেবা, বরিশাল রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত এসপি মো. আরিফুর রহমান ম-লের ২০১৮ ও ২০১৯ সালের পিপিএম, ২০১৭ সালের বিপিএম ও ২০১৬ সালের বিপিএম-সেবা, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত এসপি মো. ইকবাল হোসাইনের ২০২০ সালের বিপিএম-সেবা পদক, খুলনা পিটিসির এসপি (সুপারনিউমারারি) হাসান আরাফাতের ২০১৪ সালের বিপিএম-সেবা ও ২০১৬ সালের পিপিএম-সেবা পদক, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত এসপি (সুপারনিউমারারি) মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরীর প্রাপ্ত ২০১৫ সালের বিপিএম-সেবা এবং ২০১৭ ও ২০১৯ সালের বিপিএম, নৌ-পুলিশের টাঙ্গাইল অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর হাছানের ২০১৬ ও ২০১৮ সালের বিপিএম এবং ২০১৭ সালের পিপিএম, সুনামগঞ্জ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুবাইতা জামানের ২০২০ সালের পিপিএম-সেবা পদক, সিলেট ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামের ২০২০ সালের পিপিএম পদক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল ইসলামের ২০১৭ ও ২০১৯ সালের বিপিএম, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়রুল ইসলামের ২০১৭ সালের পিপিএম-সেবা ও ২০২৩ সালের বিপিএম-সেবা পদক, র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রওশানুল হক সৈকতের ২০২৩ সালের পিপিএম, জামালপুর ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাসের ২০১৮ ও ২০২৩ সালের পিপিএম-সেবা, খাগড়াছড়িতে এপিবিএনের বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম রুহানীর ২০২৩ সালের পিপিএম পদক, নারায়ণগঞ্জ পাগলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. মেজবাহউদ্দিন আহাম্মেদের ২০১৩ সালের পিপিএম-সেবা এবং ২০১৬ ও ২০১৯ সালের বিপিএম, রাজশাহীর সারদায় বিপিএ কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মশিউর রহমানের ২০১৪ ও ২০১৮ সালের পিপিএম-সেবা, খাগড়াছড়িতে এপিবিএনের বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের পরিদর্শক বিএম ফরমান আলীর ২০২০ সালের পিপিএম-সেবা, বগুড়া জেলা পুলিশ হাসপাতালের পরিদর্শক মো. নূর-এ-আলম সিদ্দিকীর ২০১৮ সালে প্রাপ্ত বিপিএম, নেত্রকোনা ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের পরিদর্শক কাজী মাইনুল ইসলামের ২০১৩ সালের পিপিএম পদক, ঠাকুরগাঁও ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের পরিদর্শক অপূর্ব হাসানের ২০২২ সালের পিপিএম-সেবা পদক, সারদার বিপিএ কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. শাহাজামানের ২০২৩ সালের পিপিএম-সেবা, চট্টগ্রাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৩-এর পরিদর্শক শেখ আমিনুল বাশারের ২০১১ সালের পিপিএম এবং রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত পরিদর্শক জাকির হোসাইনের ২০১৮ সালে প্রাপ্ত পিপিএম পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহের বার্ষিক প্যারেডে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়। সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় এ দুটি পদক দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকার ১৯৯৯ সাল থেকে পুলিশ সদস্যদের সৃজনশীল উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ড, মামলার রহস্য উদঘাটন, তদন্তসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য বিপিএম-সেবা ও পিপিএম-সেবা পদক দিচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের কাছে এসব পদক খুব সম্মানজনক ও মর্যাদার বলে বিবেচিত।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ ১০৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন ওই ১০৩ পুলিশ কর্মকর্তা।