মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও ঢাকার কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চেতনানাশক ব্যবহার করে আন্ত:জেলা ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬ অটোরিকশা, ২টি অটোরিকশার চেসিস ও মাইক্রোনেক্স ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- ঢাকার শ্যামপুর থানার ধোলাইরপাড়ের রুবেল ওরফে আব্দুল্লাহ (৩২), নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলাদরগা বাড়ি গ্রামের মো. জামাল হোসেন (৪০), কেরানীগঞ্জ উপজেলার রামেরকান্দা গ্রামের মো. সুমন (৩৮), দোহার উপজেলার আওরঙ্গবাদ গ্রামের ইমরান হোসেন ওরফে মোফাজ্জল (৪৫), মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দেউলভোগ গ্রামের মো. হৃদয় শেখ (২৫), একই উপজেলার ভাগ্যকুল মান্দ্রা গ্রামের পলাশ পাঠান (৩৫) ও কামারগাঁও গ্রামের মো. বিধান (৪৭)।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশীদ. অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কবীর, ডিবির ওসি ইশতিয়াক আহমেদ রাসেল প্রমুখ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানান, গত ২ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে জেলার সিরাজদীখান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রাম থেকে চালককে বিস্কুটের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্যাদি খাইয়ে ইজিবাইক ছিনতাই করে নিয়ে যায় চক্রের ৩ সদস্য। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম ওই চক্রকে ধরতে মাঠে নামে। এরপর গতকাল রবিবার (১০ আগস্ট) সকালে ইজিবাইক চালক আলম শেখের কথা মতো জেলার শ্রীনগর উপজেলার পাটাভোগ গ্রামের ফেরিঘাটের আন্ডারপাসের নীচে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তারা রুবেল, জামাল ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। পরে বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই চক্রের সদস্য হৃদয়, পলাশ ও বিধানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি অটোরিকশা ও আরো ২টি অটোরিকশার চেসিস ও মাইক্রোনেক্স ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ঢাকার কেরানীগঞ্জের রামেরকান্দা এলাকার একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ৪টি অটোরিকশা উদ্ধার ও গ্যারেজ মালিক মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ইজিবাইক চালককে হত্যা ও আহত করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। তারা সাধারণত যাত্রীবেশে ইজিবাইকে চড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরিয়ে সময়ক্ষেপণ করে অথবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যর পরিচয় দিয়ে সুবিধামতো জায়গায় নিয়ে নিজেরা খাওয়া-দাওয়া করে এবং কৌশলে ইজিবাইক চালককে বিষ মাখানো বিস্কুট, কোল্ড ড্রিংস, পানি খাইয়ে অজ্ঞান করে। চালক খেতে রাজি না হলে তাকে মারপিট করে এমনকি হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ছিনতাইয়ের পর পরই তারা তাদের চক্রের অন্য
সদস্যদের গ্যারেজে নিয়ে ইজিবাইকটির চ্যাসিস থেকে বডিটি আলাদা করে ফেলে এবং বডির রং পরিবর্তন করে ফেলে যাতে ইজিবাইকটি আর সনাক্ত করা না যায়।