এক বছর আগে হ্যালো ট্যাগ অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচয়। এরপর থেকে চলতে থাকে গুগল ট্রান্সলেটে কথা-বার্তা। আস্তে আস্তে সেটি রূপ নেয় ভালোবাসায়। আর সেই ভালোবাসার টানে বাংলাদেশের দিনাজপুরে এসেছেন চীনা নাগরিক ইয়ং সাও সাও (৩৬)। এমনকি সেই ভালোবাসার জন্য নিজের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি।
এমনই দৃশ্যের দেখা মিলল দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার কাজীপাড়া শিমুলতলী এলাকায়। এলাকার নুর হোসেন বাবুর বড় কন্যা সুরভী আক্তারের (১৯) ভালোবাসার টানে চীনের জিয়াংশু সিটির বাসিন্দা ইয়াং শি ও মা লিও ট্যাংহু দম্পত্তির ছেলে ইয়ং সাও সাও বাংলাদেশে এসেছেন।
গত ৪ আগস্ট চীনা নাগরিক ইয়ং সাও সাও বাংলাদেশে আসেন। এরপর নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। পরে সুরভীকে বিয়ে করেন। ৯ আগস্ট স্বামীকে নিয়ে নিজ বাসায় আসেন সুরভী।
সরেজমিন সুরভীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশু আসছেন চীনা জামাইকে দেখার জন্য। কেউ তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ সেলফি ও ভিডিও করছেন। চীনা নাগরিককে নিজ গ্রামের জামাই হিসেবে দেখে খুশি গ্রামের সাধারণ মানুষ। অপরদিকে চীনা জামাইয়ের আপ্যায়নে কমতি রাখছেন না সুরভীর পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা আজম হোসেন বলেন, বিদেশি জামাই দেখে খুব ভালো লাগছে। কিন্তু সে আমাদের ভাষা বুঝে না, আমরাও তার ভাষা বুঝি না। সে মোবাইলে কথা বলা বলি (গুগল ট্রান্সলেট) করছে। তারা সুখে জীবনযাপন করুক এই দোয়া করি।
অপর বাসিন্দা সুমন খান বলেন, আমার সব সময় ইন্টারনেটে দেখি যে, এই জায়গায় অমুক দেশ থেকে ছেলে বা মেয়ে এসেছে। কিন্তু নিজ এলাকায় এই প্রথমবার দেখলাম। আমাদের খুব ভালো লাগছে।
সুরভীর আত্মীয় নাসিমা খান বলেন, আমরা টিভি দেখছি বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে আসছে। কিন্তু আমার পরিবারের মধ্যে বিদেশি নাগরিক আসছে। সুরভী এক বছর ধরে তার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছে। সে আমাদের বিষয়টি জানিয়েছি। পাশাপাশি বলেছিল যে, সে যদি দেশে আসে আর আমার ধর্ম গ্রহণ করে তাহলে আমি তাকেই জীবনসাথী করব। যেহেতু ছেলেটা চলে আসছে। ছেলেটা সুরভীকে বিয়ে করেছে।
সুরভীর বাবা নুর হোসেন বাবু বলেন, আমার দুইটা মেয়ে। তারা ঢাকায় মায়ের সাথে থাকে। সুরভীর সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছেলেটার যোগাযোগ হয়। পরে ছেলেটা দেশে এসে তাকে বিয়ে করে।
সুরভীর ছোট বোন রিয়া আক্তার বলেন, বিদেশি নাগরিক আমার দুলাভাই হিসেবে পেয়ে আমাকে খুব ভালো লাগছে। আমিও তার সাথে গুগল ট্রান্সলেটের মাধ্যমে কথা বলি। খুব ভালো লাগে।
সুরভী আক্তার বলেন, আমার সঙ্গে তার হ্যালো ট্যাগ অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছে। সেখানে আস্তে আস্তে আমাদের ভালোবাসা হয়। সেখানে আমরা এক বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। পরে সে বাংলাদেশে আসতে চায় এবং আমাকে বিয়ে করতে চায়। পরে আমি তাকে আমার ধর্ম গ্রহণ করার পারো তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে করতে রাজি আছি। পরে সে বাংলাদেশে আসে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আমি তাকে বিয়ে করি।