ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) খসড়া ভোটার তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১১৭ নেতার নাম উঠে এসেছে। গত বছর ১৫ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় এদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত সাতজন এবং মামলার ২৭ আসামিও রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে কারাগারে।
আজ সোমবার বিকেল ৪টায় ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তালিকা যাচাই করে অবাঞ্ছিতদের নাম বাদ দেওয়া হবে।
১৫ জুলাইয়ের হামলার পর শিক্ষার্থীরা প্রতিটি হলে হামলাকারীদের তালিকা করে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। একই বছরের ২১ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার শাহবাগ থানায় মামলা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় তদন্তে ১২৮ জনকে বহিষ্কার করে। তবে তালিকা অসম্পূর্ণ থাকায় উচ্চ পর্যায়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, যা এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
গত ৩০ জুলাই ডাকসুর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় বহিষ্কৃত ও মামলার আসামিদের নাম পাওয়া গেছে। বিজয় একাত্তর হল, শেখ মুজিবুর রহমান হল, কবি জসীম উদ্দীন হলসহ বিভিন্ন হলে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাদের নাম রয়েছে। এদের কেউ কেউ হামলা ও গেস্টরুমে নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হয়েছে, আবার অনেকের নামে মামলা রয়েছে।
অমর একুশে হল, ফজলুল হক মুসলিম হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হলে অবাঞ্ছিত ছাত্রলীগ নেতাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেও হলে সক্রিয় রয়েছে।
প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যাদের নাম থাকা উচিত নয়, তাদের বাদ দেওয়া হবে। তিনি জানান, উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি সময়ের অভাবে এখনও বৈঠক করতে পারেনি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
