জবি শিক্ষার্থী অবন্তিকার মৃত্যু

সহপাঠী রায়হান অভিযুক্ত, অব্যাহতি পেলেন সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী ফাইরুজ সাদাফ ওরফে অবন্তিকার (২৪) আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এতে সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী (আম্মান)–কে অভিযুক্ত করা হলেও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রবিবার দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এই অব্যাহতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অবন্তিকার মা তাহমিনা বেগম (শবনম)। তিনি আরও বলেন, অবন্তিকা মৃত্যুর আগে ফেসবুকে সুইসাইড নোটে দ্বীন ইসলামের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে। এর চেয়ে বড় সাক্ষ্য আর কী হতে পারে? তারপরও তিনি কীভাবে মামলা থেকে বাদ পড়লেন?

২০২৪ সালের ১৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিস–সংলগ্ন বাসায় ফ্যানের সঙ্গে অবন্তিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যার জন্য সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে দায়ী করেন তিনি।

এ ঘটনায় পরদিন, ১৬ মার্চ রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন তাহমিনা বেগম। মামলায় রায়হান ও দ্বীন ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর দুজনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা জামিনে মুক্ত হন।

সোমবার (১১ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তদন্তকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাসহ ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। অবন্তিকার মোবাইল ফোন থেকে ফেসবুক পোস্ট, ছবি, স্ক্রিনশট এবং মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। ফোনটি ফরেনসিক ল্যাবেও পাঠানো হয়। তবে তদন্তের পর অভিযোগপত্রে শুধু রায়হান সিদ্দিকীকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী তাহমিনা বেগম মনে করেন, সঠিক তদন্ত হলে দ্বীন ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, চার মাস আগেও আমার মেয়ে আম্মানের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নেয়নি। আমি আমার মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি, এখন বিচারও পাচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হব।