আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক আজ

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন তিনি। ঢাকা ত্যাগের প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তার বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল বিমানবন্দরে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করে স্বাগত জানান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর করছেন প্রধান উপদেষ্টা। আজ মঙ্গলবার পুত্রজায়ার পেরদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে প্রধান উপদেষ্টার আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক। এরপর প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে উভয় দেশের কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে।

এ বৈঠকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও তিনটি নোট বিনিময় সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচ্য খাতের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময়, হালাল খাদ্য শিল্পে যৌথ উদ্যোগ, প্রবাসী শ্রমিক প্রেরণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, উচ্চশিক্ষা ও কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ বিনিময় কর্মসূচি, সেমিকন্ডাক্টর ও হাইটেক শিল্পে দক্ষতা উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক মানবিক সহযোগিতা।

প্রবাসী শ্রম ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রাধিকার : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসী শ্রমিক প্রেরণে নানান জটিলতা দেখা দেওয়ায় এ সফরের অন্যতম মূল লক্ষ্য শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য যৌথ কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং হালাল খাদ্য ও প্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

আগামীকাল বুধবার সফরের শেষ দিনে অধ্যাপক ড. ইউনূস মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক বিশেষ সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। একই দিনে ইউকেএম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করবে, যেখানে তিনি উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবন নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

এ সফরকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া, প্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগ এবং হালাল শিল্পে অংশীদারত্ব দুই দেশের অর্থনীতি ও কৌশলগত সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করবে।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে যৌথ অবস্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রভাবও বাড়িয়ে তুলতে পারে।