অ্যান্টিভেনম নেই, দুই সপ্তাহে সাপের কামড়ে মৃত্যু ৫

ঠাকুরগাঁওয়ে গত দুই সপ্তাহে সাপের কামড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার পাঁচটি সরকারি হাসপাতালের কোনোটিতে অ্যান্টিভেনম না থাকায় সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ হারাচ্ছে রোগীরা এমন অভিযোগ স্বজনদের।

গত শুক্রবার রাতে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কদমতলা গ্রামের স্কুলছাত্র সাকিবুল ইসলাম সাপের কামড়ে মারা যায়।

স্থানীয়রা জানান, সাপ কামড়ানোর পর তাকে প্রথমে বালিয়াডাঙ্গী, পরে হরিপুর, ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কোথাও অ্যান্টিভেনম মজুদ ছিল না। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় সাকিবুল।

ওই শিশুর বাবা ইসরাইল উদ্দীন বলেন, ‘চারটি হাসপাতালে নিয়েও ভ্যাকসিন পাইনি। কোলে করেই ছেলেকে হারালাম। আর যেন কোনো বাবার বুক খালি না হয়, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিক।’

এ ছাড়া সাকিবুলের মতো পীরগঞ্জের স্কুলছাত্র তারেক, রাণীশংকৈলের কলেজছাত্র মোকসেদ আলী এবং হরিপুরের গৃহবধূ সম্পা রানীসহ গত দুই সপ্তাহে জেলায় সাপের কামড়ে মারা গেছে পাঁচজন।

সম্পা রানীর স্বামী জিতেন বলেন, ‘হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ওঝার কাছে যেতে হয়েছে। কিন্তু স্ত্রীকে বাঁচাতে পারিনি। দেড় বছরের সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি।’

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আজমুল হক বলেন, ‘বর্ষার সময়ে সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে। প্রতি বছর জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনম পাঠানো হয় বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে। অথচ আগে থেকেই অ্যান্টিভেনম মজুদ রাখা উচিত।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে ১০০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়; যা এক মাস আগে শেষ হয়েছে। অ্যান্টিভেনম স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজির অফিস থেকে সরবরাহ হতো। কিন্তু এখন আর ডিজি অফিস থেকে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে এখন অ্যান্টিভেনম নেই। আগামী অর্থবছরে ওষুধ কেনার সময় অ্যান্টিভেনম যুক্ত করার পর সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকরা জানান, একজন সাপে কাটা রোগীর জন্য সর্বনিম্ন ১০ ভায়াল এবং সর্বোচ্চ ৩০ ভায়াল পর্যন্ত অ্যান্টিভেনম প্রয়োজন হয়।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মো.আনিছুর রহমান বলেন, ‘চাহিদা পাঠানোর পরও কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। সেখানেও সংকট রয়েছে। দ্রুত আনার চেষ্টা করছি।’