ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ইমানুয়েল সানডের লক্ষ্যভেদ। সেই লিড বাকিটা সময় ধরে রেখে সিরিয়া সেরা আল-কারমাহকে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে নাম লিখিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। কাতারের দোহায় জমজমাট লড়াইয়ে কারামাহ মরিয়া চেষ্টা করেও বসুন্ধরার রক্ষণদূর্গে ফাটল ধরাতে পারেনি। সুবাদে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্ব নিশ্চিত করেছে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সুযোগ পাওয়া বসুন্ধরা।
কয়েক ঘন্টা আগেই দেশ থেকে বাংলাদেশের আরেক দল আবাহনীর হারের খবর পেয়েছিল বসুন্ধরা। ঘরের মাঠে কিরগিজ দল মুরাস ইউনাইটেডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় আকাশী-হলুদ জার্সিধারীরা। স্বদেশী দলের বিদায়ের খবরের আগেই অবশ্য বড় দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছিল বসুন্ধরাকে। ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের সাবেক কোচ সার্জিও ফারিয়াসের নাম ঘটা করে কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছিল বসুন্ধরা। এই অভিজ্ঞ কোচের কথা ছিল দোহায় দলের দায়িত্ব নেওয়ার। তবে এই কোচ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে যোগ দেন ইরাকের একটি ক্লাবে। ফলে বসুন্ধরাকে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ খেলতে হয়েছে দুই স্থানীয় কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি ও সৈয়দ গোলাম জিলানীর তৈরী করা কৌশলে। এই দুই কোচের প্রো-কোচিং লাইসেন্স না থাকায় বসুন্ধরাকে নিশ্চিত জরিমানার মুখে পড়তে হবে। তারপরও উদ্যোম হারায়নি তারা।
ম্যাচে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত দোহার স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীকে উৎসবের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ খোয়ানো বসুন্ধরা কিংস।
মোহামেডান থেকে নাইজেরিয়ার ইমানুয়্যেল সানডেকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল সেটা ম্যাচের শুরুতেই প্রমাণিত হয়। সোহেল রানার কর্নার গোলমুখের জটলায় বাধা পেয়ে চলে আসে গত মৌসুমে মোহামেডানের খেলা ইমানুয়েল টনির কাছে। তার দুর্বল শট পোস্টে ছিল না। সানডে সেই বল পেয়ে অসাধারণ ব্যাকভলিতে কারামাহ কিপারকে বোকা বানান।
এরপর থেকেই বসুন্ধরার সংগ্রাম শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঠেকিয়ে দেওয়ার। এই লড়াইয়ে অসাধারণ খেলেছেন দলটির ডিফেন্ডাররা। তার তেকাঠীর নিচে মেহেদী হাসান শ্রাবণও ছিলেন নিঁখুত। লিড ধরে রাখতে বসুন্ধরা অবশ্য পুরোপরি রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়নি। এক মৌসুম পর দলে ফেরা ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ডরিয়েলটন গোমেজ, আবাহনী থেকে আসা আরেক ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল আগুস্তো, উইঙ্গার রাকিব হোসেনকে নিয়ে বারবার চেষ্টা করে গেছেন আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখার। মাঝমাঠে দুই সোহেল রানাও ছিলেন সপ্রতীভ। তবে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন তরুন তাজউদ্দিন ও বর্ষীয়ান তপু বর্মণ। তার কিংসের অভিষেকটা স্মরণীয় করে রেখেছেন কারামাহ'র ডান দিকের বেশিরভাগ আক্রমণ রুখে দিয়ে। তার স্টপার ব্যাক হিসেবে তপু বারবার আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন।
ম্যাচের শেষ দিকে বসুন্ধরা নতুন সাইনারদেরও পরখ করে দেখেছে। আবাহনীর মাঝমাঠের প্রহরী মোহাম্মদ হৃদয়, যুক্তরাজ্য প্রবাসী তরুণ ফরোয়ার্ড কিউবা মিচেলের অভিষেক হয়েছে বসুন্ধরার জার্সিতে। নিজেদের মেলে ধরার যথেষ্ট সময় না পেলেও দলের স্মরণীয় জয়ে কৃতিত্ব তারাও পাবেন।
চ্যালেঞ্জ লিগ এএফসি'র ক্লাব ফরম্যাটের তৃতীয় স্তর। গত বছর এই আসরের গোড়াপত্তন হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে সেই আসরে একমাত্র প্রতিনিধিত্ব ছিল বসুন্ধরার। তবে প্রথমবারের অভিজ্ঞতা ভীষণ তেতো। গ্রুপের তিন ম্যাচেই হারতে হয়। এবার বসুন্ধরার আন্তর্জাতিক আসরে খেলার সুযোগই পাওয়ার কথা ছিল না। তবে লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান যোগ্যতা অর্জণ না করায় এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দুটি দেশের কোন ক্লাব খেলার যোগ্যতা না থাকায় গত মৌসুমের ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুযোগ আসে বসুন্ধরার।
কিছু জটিলতার কারণে বসুন্ধরা এই ম্যাচের জন্য অনুশীলণও শুরু করেছিল একটু বিলম্বে। চার বিদেশী ও কিউবা মিচেল ঢাকার ক্যাম্পে ছিলেন না। তারা শেষ দুই সেশণে দলের সঙ্গী হয়েছিলেন দোহায়। শেষ পর্যন্ত সেই বসুন্ধরাই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব টিকিয়ে রেখেছে চ্যালেঞ্জ লিগে।