ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।’ গতকাল মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ড. ইউনূস বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দেশকে স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার পথে ফিরিয়ে আনতে পারব। এজন্য আমাদের অনেক সহায়তা প্রয়োজন এবং আমরা মালয়েশিয়ার সহায়তা প্রত্যাশা করছি।’ এ সময় মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, এখানে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বড় সংকট। এ সংকট সমাধানে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) সাহায্য চাই।’ এ ছাড়া বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস।
মিয়ানমারের রাখাইনে হত্যা ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে ‘চাপ’ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আঞ্চলিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, আমরা অবশ্যই তাতে উদ্বিগ্ন।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অবশ্যই একটি বড় বিষয়। একই সঙ্গে দুর্ভোগে থাকা শরণার্থী ও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তাও প্রয়োজন। নিউ ইয়র্ক, কলকাতা ও মালয়েশিয়ায় বহুপক্ষীয় ফোরামে উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশের কর্র্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে একটি দল গঠন করে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার সফর করবেন। তিনি বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো সেখানে শান্তি নিশ্চিত করা এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর যে নৃশংসতা চলছে, তার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা।’
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে। কারণ বাংলাদেশের কর্মীরা এখানে একসঙ্গে কাজ করে মালয়েশিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, এ কারণেই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মানবসম্পদমন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা চালু করতে সম্মত হয়েছেন, যাতে বাংলাদেশের কর্মীরা তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং কর্মস্থলে নিরাপদ বোধ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আপনারা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন এবং সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে আটকে পড়া কর্মীদের সহায়তার জন্য।’
ড. ইউনূসকে মালয়েশিয়ার একজন ‘মহান বন্ধু’ হিসেবে তুলে ধরে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশের এই ক্রান্তিকালে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধ্যাপক ইউনূস অসাধারণ অগ্রগতি এনেছেন। এখন তিনি মালয়েশিয়ার সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও উন্নয়নে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূসকে এ দেশের মানুষ চেনেন তার অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য, যা দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্রঋণ এবং কেদাহর আলবুখারি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা সৃষ্টি।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, তারা সম্ভবত প্রথম সরকারি প্রতিনিধিদল হিসেবে ঢাকায় এসেছিলেন, বন্ধুত্বের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি দেখাতে। তারা চান, একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ও মালয়েশিয়ার বন্ধু দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তার জনগণের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করে উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করুক। দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ার উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বাংলাদেশি শ্রমিকরা। এ সময় আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বলেন, আপনাদের শ্রমিকরা শুধু আমাদের অর্থনীতির গতি বাড়িয়েছে তা নয়, বরং মালয়েশিয়ার উন্নয়নের অংশীদার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের পারিবারিক জীবনের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে মালয়েশিয়া থেকে দেশে একাধিকবার যাওয়া-আসার (মাল্টিপল এন্ট্রি) ভিসা সুবিধা চালু করা হয়েছে। এ সুবিধা চলতি মাস (৮ আগস্ট) থেকে কার্যকর হয়েছে। বৈধ অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস (পিএলকেএস) ও সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা (এসইভি) থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের আর আলাদাভাবে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না।
বাংলাদেশে ৫জি সেবা সম্প্রসারণে আজিয়াটার প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান : প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে ৫জি সেবা চালু এবং দেশের ডেটা সেন্টারগুলোতে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় টেলিকম কোম্পানি আজিয়াটার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল কুয়ালালামপুরে আজিয়াটা গ্রুপ মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহরিল রিদজা রিদজুয়ান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার হোটেলে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় অধ্যাপক ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন এবং এর ডিজিটাল অর্থনীতিতে ট্যাপ করতে আগ্রহী বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। তিনি বলেন, শীর্ষ টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের জন্য আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে অন্তর্বর্তী সরকার লাইসেন্সিং ব্যবস্থাকে আরও সহজ করছে। মোবাইল অপারেটর রবির মূল কোম্পানি আজিয়াটা বারহাদের গ্রুপ সিইও বিবেক সুদ বলেন, ‘কোম্পানি বাংলাদেশে ৫জি পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়েছে।’
তবে তিনি উল্লেখ করেন, সম্পূর্ণ ৫জি স্থাপনার জন্য দেশের ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ অপরিহার্য। বিবেক সুদ বলেন, রবি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বার্ষিক প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং ৫জি সেবায় বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত।
আজিয়াটা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আজিয়াটা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহরিল রিদজা রিদজুয়ান। এ সময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আজিয়াটা গ্রুপের চিফ রেগুলেটরি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স অফিসার ফুং চি কিয়ং এবং গ্রুপের চিফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি অফিসার থমাস হান্ডট।
মালয়েশিয়ান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার : মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে ব্যবসাবান্ধব করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অতীতে বাংলাদেশে ব্যবসা আমার ধারণা অনুযায়ী এগোয়নি। নতুন বাংলাদেশে অনেক কিছুর উদ্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো ব্যবসায়িক সম্ভাবনা। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগসংক্রান্ত এক ব্যবসায়িক ফোরামে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসাবান্ধব হতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। আমি একটি পরিবর্তনশীল বাংলাদেশে সীমাহীন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে তরুণ ও সৃষ্টিশীল মানুষের অভাব নেই এবং বিশ্ব জুড়ে থাকা বাংলাদেশি তরুণদের প্রতিভা কাজে লাগানো যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এক উপস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ সুবিধা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণের উদ্যোগ তুলে ধরেন। রবির প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডার ও আজিয়াটা গ্রুপের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিবেক সুদ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ২৮ বছরের সফল অংশীদারত্ব ও বৃদ্ধির গল্প তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়াম ন্যাশনাল বেরহাদের (পেট্রোনাস) সভাপতি ও গ্রুপ সিইও টেংকু মুহাম্মদ তৌফিক, সোভেরিন ওয়েলথ ফান্ড খাজানা ন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল ফয়সাল ওয়ান জহির, পাম তেল কোম্পানি সিমে ডার্বি প্ল্যান্টেশনস, কুয়ালালামপুর কেপং বেরহাদ (কেএলকে), আইওআই করপোরেশন ও ফেলডা গ্লোবাল ভেঞ্চারসের (এফজিভি) শীর্ষ কর্মকর্তারা, প্রোটন হোল্ডিংস বেরহাদের (প্রোটন) চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়সাল আলবার এবং গ্লাভ প্রস্তুতকারক টপ গ্লোভ করপোরেশনের নির্বাহী চেয়ারম্যান লিম উই চাই।
এর আগে গতকাল বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও তিনটি নোট বিনিময় স্বাক্ষরিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনেই এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পুত্রাজায়ায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই সমঝোতা স্মারক সই ও নোট বিনিময় হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এটি প্রত্যক্ষ করেন।
আজ বুধবার ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়ার (ইউকেএম) আচার্য ও নেগেরি সেমবিলান রাজা তুয়াংকু মুহরিজ ইবনি আলমারহুম তুয়াংকু মুনাওয়ির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ড. ইউনূস। এরপর প্রধান উপদেষ্টাকে একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি তুলে দেবে ইউকেএম বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে একটি স্মারক বক্তৃতাও দেবেন প্রধান উপদেষ্টা।
৫টি সমঝোতা স্মারক ও ৩টি নোট বিনিময় স্বাক্ষর : বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং তিনটি নোট বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরের পুত্রজায়ায় এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নোট বিনিময় চুক্তি
১. উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা : মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
২. কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ : মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এতে স্বাক্ষর করেন।
৩. হালাল ইকোসিস্টেম : মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উপমন্ত্রী সিনেটর ড. জুলকিফলি বিন হাসান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারক
১. প্রতিরক্ষা সহযোগিতা : মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতো সেরি মোহাম্মদ খালিদ বিন নরদিন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এতে স্বাক্ষর করেন।
২. তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি অবকাঠামো : মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী দাতুক সেরি আমির হামজাহ বিন আজিজান এবং বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা এম ফাওজুল কবির খান এই এমওইউতে স্বাক্ষর করেন।
৩. কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা : মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (আইএসআইএস) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরকারী হিসেবে ছিলেন আইএসআইএস-এর চেয়ারম্যান দাতুক অধ্যাপক মোহদ ফয়জ আবদুল্লাহ এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান।
৪. বাণিজ্যিক সহযোগিতা : মালয়েশিয়ার মাইমস সার্ভিসেস এসডিএন বিএইচডি (এমএসএসবি) এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) এই এমওইউ স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষরকারী ছিলেন এমএসএসবির সিইও মোহাম্মদ ফওজি ইয়াহায়া এবং বিএমসিসিআইয়ের শাব্বির আহমেদ খান।
৫. বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা : মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এনসিসিআইএম) এবং বাংলাদেশের এফবিসিসিআইয়ের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরকারী ছিলেন এনসিসিআইএম-এর সভাপতি দাতো সেরি এন গোবালাকৃষ্ণান এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ান কর্মীদের সমান সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীরা এখন বাংলা ভাষায় অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা এই সুবিধা নিশ্চিত করেছেন।
আটকেপড়া কর্মী ও ভিসা সুবিধা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে প্রায় ৮ হাজার আটকেপড়া বাংলাদেশি কর্মীর প্রবেশ সহজ করা এবং মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা চালুর জন্য মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান। উভয় পক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শ্রমিক কল্যাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দক্ষ পেশাজীবী নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা : আসিফ নজরুল মালয়েশিয়াকে সরকারি পর্যায়ে ডাক্তার ও প্রকৌশলীসহ দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবী নিয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্নাতক পাস’ ভিসা চালুর অনুরোধ করে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এ ছাড়া, অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়মিতকরণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।