অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরও কার্যকর হতে নতুন ভূমিকায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় আসরে তিনি পাওয়ারপ্লেতে নতুন বলে বোলিং করার পরিকল্পনা করছেন, কারণ উপমহাদেশের কন্ডিশন স্পিনারদের জন্য অনুকূল হতে পারে।
ধারালো ব্যাটিং ও কাজে লাগানো অফ-স্পিনে আগে থেকেই সুনাম কুড়ানো ম্যাক্সওয়েল সাধারণত আংশিক বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হন, রান আটকানোর জন্য। তবে এবার তিনি নিজের অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে চান। কেয়ার্নসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টির আগে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “উপমহাদেশে শুরুর দিকে স্পিনাররা কিছুটা বাড়তি সহায়তা পেতে পারে। নতুন বলের শক্ত সিম শুকনো উইকেটে গ্রিপ করতে সাহায্য করে। তাই এগিয়ে যাওয়ার পথে আমরা হয়তো এটা নিয়ে ভাবতে পারি।”
এই ভূমিকায় ম্যাক্সওয়েলের অভিজ্ঞতাও আছে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে পাওয়ারপ্লেতে আউট করা ছিল তার অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত, যা অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। ম্যাক্সওয়েলের ভাষায়, “আমি যখন উইকেট পাই, নিজের কাছেই অবাক লাগে। উইকেট পেতে ভালো লাগে, তবে আমি মূলত পাওয়ারপ্লেতে দায়িত্ব পালন করছি এবং যতটা সম্ভব তা ঠিকভাবে করতে চাই।”
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলতি সিরিজে ম্যাক্সওয়েল ইতোমধ্যে পাওয়ারপ্লেতে দুই ওভার লেগ স্পিন বোলিং করেছেন এবং দ্বিতীয় ম্যাচে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে অধিনায়ক এইডেন মার্করামের উইকেটও আছে।
তবে শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন আনছেন ৩৫ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েল। প্রথম ম্যাচে নেমেছিলেন সাত নম্বরে, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট করেছেন পাঁচে। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বাঁ-হাতি স্পিনার আকিল হোসেনকে সামলাতে চার ম্যাচে ওপেন করেছিলেন। “আমি এখন ব্যাটিং অর্ডারে একটু এদিক-সেদিক হচ্ছি, যেখানে ফাঁক দেখছি সেটি পূরণ করছি। কখনও ওপরে যাচ্ছি, কখনও নিচে, দলের প্রয়োজনে মানিয়ে নিচ্ছি।”
সবকিছু মিলিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাক্সওয়েল হতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম মূল্যবান সম্পদ।