রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার কর্তৃক শপথ পাঠ করানোর বৈধতা প্রশ্নে রুলের শুনানিতে মতামত দিতে ৭ শীর্ষ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিযুক্ত করেছে উচ্চ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সাত আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেন। তারা হলেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী, ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আগামী ২৬ অক্টোবর অ্যামিকাস কিউরিদের মতামত শুনবে হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিটকারীর আইনজীবী ওমর ফারুক গতকাল হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন।
রাষ্ট্রপতিকে স্পিকারের শপথের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মার্চ রুল দেয় হাইকোর্ট। রুলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে এমন বিধান যুক্ত করা কেন ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না এবং এই বিধান স্বেচ্ছাচারী, অসাংবিধানিক এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী হওয়ায় কেন তা বাতিল করা হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট। লেখক ও গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জীর পক্ষে এ রিট আবেদনটি করা হয়।
আবেদনের যুক্তিতে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি দুজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ‘পতি’ শব্দচয়ন যুক্ত আছে। তারা দুজন দেশের উচ্চতম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্পিকার জাতীয় সংসদের। প্রধান বিচারপতি সংবিধানের অভিভাবক। তিনি বলেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে প্রেসিডেন্টকে শপথ পাঠ করান সেই দেশের প্রধান বিচারপতি। এটা পৃথিবীব্যাপী সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত রেওয়াজ। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর আগে রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাতেন প্রধান বিচারপতি। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এটির পরিবর্তন হয়ে স্পিকার নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথপাঠ করান। পরে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধান বাতিল করা হয়। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর বিধান ফিরিয়ে আনা হয়।