ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে তাকিয়ে বিশ্ব

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলাস্কার অ্যাঙ্করেজে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টা) বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিকভাবে অভিযান শুরুর মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে, নাও পারে দুই ধরনের অনিশ্চয়তাই রয়েছে। ইউক্রেন প্রশ্নে পুতিন বরাবরই ছাড় দিতে নারাজ। আর ট্রাম্প নিজেকে তুলে ধরছেন শান্তির দূত হিসেবে। এ বৈঠকের আগে কয়েক দিন ধরে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ট্রাম্পের সঙ্গে আলাস্কার বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গী হচ্ছেন পাঁচ কর্মকর্তা। তারা হলেন প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকোভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুসোভ, অর্থমন্ত্রী অ্যান্টন সিলুয়ানোভ এবং রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ। আর ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট ও সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফকও রয়েছেন সেখানে। ট্রাম্পের আলাস্কা রওনা হওয়ার আগে নামগুলো প্রকাশ করে হোয়াইট হাউজ।

এদিকে, বৈঠকের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যমী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আলাস্কায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মস্কো এবং ওয়াশিংটন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তি করতে পারে। ট্রাম্প আলাস্কায় বৈঠকের ঘোষণা দেওয়ার পর পুতিনের এই প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন এবং ইউক্রেন নিয়ে চলমান আলোচনার অবস্থা জানিয়েছেন। পুতিন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ থামানোর, সংকট শেষ করার এবং সব পক্ষের স্বার্থে চুক্তি করার জন্য আমার মতে যথেষ্ট উদ্যমী ও আন্তরিক প্রচেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো আমাদের দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির অবস্থা তৈরি করা। পুতিন আরও বলেন, পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনায় কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চুক্তি করা সম্ভব হলে এই শান্তি আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে পুতিন আলাস্কায় আলোচনায় ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করার জন্য চুক্তি করবেন। ফক্স রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত যে পুতিন চুক্তি করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন দ্বিতীয় একটি বৈঠক বসাতে, যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও থাকবেন। শুক্রবারের আলোচনার মাধ্যমে এই দ্বিতীয় বৈঠকটি ঠিক করা হবে। ট্রাম্প বলেন, এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। প্রেসিডেন্ট পুতিন, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, আমি নিজে এবং হয়তো কিছু ইউরোপীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করব, আবার হয়তো না। তবে পুতিনের লক্ষ্য বিজয়। তার জোর দাবি, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন থেকে দখল করা সব ভূমি রাশিয়ার কাছে থাকবে। পাশাপাশি, কিয়েভকে ওই অঞ্চলগুলোর যে অংশ এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে আছে, সেখান থেকেও সরে যেতে হবে। তবে ইতিমধ্যে ইউক্রেন এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাফ জানিয়েছেন, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ইউক্রেনীয়রা তাদের ভূমি দখলদারদের হাতে তুলে দেবে না। তবে যদি ভূখণ্ডগত দাবির বিষয়ে মস্কো ট্রাম্পের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারে; তাহলে হিসাবটা এমন হতে পারে যে, ইউক্রেন অস্বীকার করলে ট্রাম্প কিয়েভের প্রতি সব সমর্থন বন্ধ করে দেবেন। আর সে অবস্থায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। আরেকটি সম্ভাবনাও আছে। রাশিয়ার অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। বাজেট ঘাটতি বাড়ছে, তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে আয় কমছে। যদি অর্থনৈতিক সংকট পুতিনকে যুদ্ধ শেষ করতে চাপ দেয়, তাহলে ক্রেমলিন সমঝোতার পথে হাঁটতে পারে। রুশ কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়াই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।