দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন পালন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার তার জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ, এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দোয়া এবং মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলের চেয়ারপারসনের আরোগ্য কামনায় একই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এ ছাড়া খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গতকাল বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দেন তার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। ফুলের তোড়া গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব ও সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। পরে ফুলেল শুভেচ্ছার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় বিএনপি আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কারাগারে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ওপর চরম নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার বিচার চান।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাকশালের পরিবর্তে গণতন্ত্র এনেছিলেন, খালেদা জিয়া সামরিক স্বৈরশাসনের গোরস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আর তারেক রহমান ফ্যাসিবাদের জায়গায় গণতন্ত্রের সূচনা করবেন। যারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল, তাদের ক্ষমতায় ফিরতে বহু বছর লেগেছে। মুসলিম লীগ ফিরতে পারেনি, আওয়ামী লীগের লেগেছিল ২১ বছর। কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি মাত্র ৯ বছরে ক্ষমতায় ফিরেছিল। এই অর্জনের মূল কা-ারি দেশনেত্রী। তার হাত ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস রচিত হয়েছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়ার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। অনেকে দল ছেড়ে গেলেও দুর্দিনে হাল ধরেছিলেন খালেদা জিয়া। সামরিক স্বৈরশাসনের গোরস্তানে তিনি গণতন্ত্র এনেছিলেন। তারেক রহমান ফ্যাসিবাদের জায়গায় গণতন্ত্রের সূচনা করবেন। আমরা সেই শুভদিনের অপেক্ষায় আছি।’
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, আবদুল কাদের ভূঁইয়া, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুবদলের নুরুল ইসলাম নয়ন, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে জন্মদিন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে রিজভী বলেন, ‘সংস্কারের নামে কালক্ষেপণ করলে ভয়ংকর বিপদ ও মহাবিপদ ডেকে আনবে। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের সংস্কার আমরা দেখেছি। সেই সংস্কারের পর শেখ হাসিনার দানব সরকার এসেছিল, ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। জাতি এক ভয়ংকর ফ্যাসিস্ট সরকারের মুখোমুখি হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, জাকির, সুমনসহ অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম ও খুন করে ভয়াবহ দুঃশাসন কায়েম করা হয়েছিল। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছিল। মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। আমরা এমন সংস্কার চাই না।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ।
এদিকে, আজ শনিবার সকালে জাতীয় শিশু একাডেমি দোয়েল চত্বর সড়কের পুরাতন হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া শিশু-কিশোর মেলার উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
ঢাবিতে খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দোয়া মাহফিল : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গতকাল বাদ জুমা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।