মির্জা আব্বাস বললেন

কারাগারে খালেদা জিয়াকে নির্যাতনের বিচার করতে হবে

কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে অভিযোগ করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় বিএনপির উদ্যোগে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ দাবি করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কারাগারে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত যে কক্ষে রাখা হয়েছিল, সেখানে ইঁদুর-পোকামাকড় দৌড়াদৌড়ি করত। তাকে অন্যায়ভাবে ছাদের ওপরে একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আজকে আমি খালেদা জিয়ার জেলজীবনে তার ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, যে নির্যাতন হয়েছে, কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার দাবি করছি। তাদের বিচার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

বিএনপির দুর্দিনে দলের নেতৃত্ব দিয়ে খালেদা জিয়া যে ভূমিকা রেখেছেন, তা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা যারা কয়েকজন তার সঙ্গে কাজ করেছি আমরা দেখেছি, নানা চাপের মধ্যেও তার দৃঢ় মনোবল। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তার আপসহীন নেতৃত্ব এবং নেতাকর্মীদের প্রতি তার যে ভালোবাসা ও স্নেহ তা তুলনাহীন।’

‘ভোট গণনার আগ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে’ : ভোট গণনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা বিরাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘এখনো গণতন্ত্র নাগালের বাইরে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে নির্বাচন হবে। তবে ভোট গণনার আগ পর্যন্ত তা নিয়ে শঙ্কা থেকে যাবে। যত রক্ত ঝরুক, যত জীবনই যাক, এখনো গণতন্ত্র আমাদের হাতের নাগালের বাইরে। আমরা শুনি, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে নির্বাচন হবে। তবে ভোট গণনার আগ পর্যন্ত, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়, সংশয় আছে।’

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারও পাতানো ফাঁদে বা কারও পাতানো কথায় ঐক্যের চেয়ে যাতে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত না হয়। নির্বাচনটা সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে যেন নতুন করে কোনো চক্রান্তের ফাঁদ পেতে কেউ সফল না হতে পারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন নন, তিনি জাতির অভিভাবকও। গণতন্ত্রের জন্য তিনি অবিরাম লড়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কখনো জন্মদিন উদযাপন করতেন না; দলের পক্ষ থেকেই এ আয়োজন করা হতো।