দাঁতে স্কেলিং কেন করবেন

স্বাভাবিক নিয়মেই খাবারের পর কিছু খাবার দাঁত ও মাড়ির মাঝের খাঁজ, যেটাকে মরহমরাধষ পৎবারপব বলে, সেখানে আটকে যায়। নিয়মিত ঠিকভাবে ব্রাশ করলে সেটা চলেও যায়। কিন্তু যদি এই সামান্য খাবারের অংশ লেগে থাকা অবস্থায় ব্রাশ না করা হয় তাহলে সেটা কিছুটা শক্ত হয়ে যায়। একে বলে প্লাক (plaque)। এই কিছুটা শক্ত হয়ে যাওয়া প্লাকের কিছু অংশ পরবর্তী সময় ব্রাশের সঙ্গে উঠতে চায় না। প্রত্যেকবার এ রকম একটু একটু প্লাক জমে শক্ত হয়ে তৈরি হয় ক্যালকুলাস (calculus)। সহজ বাংলায় পাথর।

দাঁতের ক্ষতি করে

দাঁত থেকে মাড়িকে আলাদা করে দেয় এবং দাঁতের সংবেদনশীল অংশ ডেন্টিন উন্মুক্ত করে দেয়। ফলে ঠান্ডা, মিষ্টি ইত্যাদি খাবারে দাঁত শিরশির করে। মাড়িতে প্রদাহ করে। ফলে মাড়ি লালচে হয়ে যায় এবং ব্রাশ করার সময় বা শক্ত কিছুতে কামড় দিলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে। মাড়ির প্রদাহ বেশি হলে কখনো কখনো এমনিতেও মুখে রক্ত আসতে পারে। মুখে দুর্গন্ধ হয় যেটাকে ঐধষরঃড়ংরং বলা হয়। ক্যালকুলাস মাড়ির নিচের হাড়কেও ক্ষয় করে ফেলে ধীরে ধীরে। একসময় দাঁত নড়তে থাকে এবং একটা পর্যায়ে স্কেলিং এ আর তা ভালো হয় না। দাঁত ফেলে দিতে হয়। এই ক্যালকুলাসকে পরিষ্কার করার প্রসেসের নামই হলো স্কেলিং। এটি সাধারণত আল্ট্রাসনিক মেশিনে করা হয়।

স্কেলিং নিয়ে ভুল ধারণা

বছরে একবার বা দুবার স্কেলিং করতে হয় :  স্কেলিং একমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক করতে হবে। অনেক ভালো ওরাল হাইজিন মেইনটেইন করেন এমন ব্যক্তির সাধারণত অনেক বছর পর বছর স্কেলিং করতে হয়না। আর যিনি ওরাল হাইজিনের প্রতি কেয়ারলেস তার স্কেলিংয়ের প্রয়োজন হবে বেশি।

স্কেলিং করলে দাঁত ফাঁকা হয়ে যায় : এটিও ভুল ধারণা। যখন ক্যালকুলাস সরে যায়, তখন দাঁতের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া মাড়ি পুনরায় স্বাভাবিক জাগায় আসতে কয়েক দিন সময় লাগে। এ সময় ওই জায়গাগুলো জিহ্বায় ফাঁকা ফাঁকা মনে হয় এবং ঠান্ডা পানিতে দাঁত শিরশির করে। কয়েক দিন পরই স্বাভাবিক জায়গায় চলে আসে।

স্কেলিং করলে দাঁতের ক্ষতি হয় : স্কেলার মেশিনের মূল মেকানিজম হলো আল্ট্রাসনিক ভাইব্রেশন।  নিয়ম না মেনে স্কেলিং করলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।