এ বছর ঘটা করে ৩২ দল নিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করে প্রথম আসরেই সাফল্য পেয়েছে ফিফা। অর্থ আয়ের সম্ভাবনার কারণে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো চাচ্ছিলো চার নয় দুই বছর পর পর যেন মাঠে গড়ায় ক্লাব বিশ্বকাপ। এবার ফিফাও সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। আর এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ক্যালেন্ডারে আরও চাপ বাড়বে। তাই উয়েফা ও প্রিমিয়ার লিগের মতো সংস্থাগুলো এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান নিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ফিফা ২০২৯ সাল থেকে প্রতি দুই বছর পর পর ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। আগামী ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ এরই মধ্যে নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল ও নাপোলির মতো শীর্ষ ইউরোপীয় ক্লাবগুলো চাপ দিচ্ছে যাতে টুর্নামেন্টটি দুই বছর ব্যবধানে আয়োজন করা হয়। যেসব ক্লাব প্রথম আসরে অংশ নিতে পারেনি, তারাও অতিরিক্ত আয়ের আশায় এমনটা চাচ্ছে। এ বছর ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে চেলসি প্রায় ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড উপার্জন করে।
ফিফা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডার ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্থির থাকায় আপাতত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে ২০৩০ পরবর্তী সময়সূচি নিয়ে আলোচনার জায়গা আছে। খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত চাপ কমাতে জুন মাসের আন্তর্জাতিক বিরতি বাতিলের প্রস্তাবও এসেছে। তবে এতে আপত্তি জানিয়েছে উয়েফা। কারণ সে সময়েই আয়োজিত হয় তাদের ন্যাশনস লিগ ফাইনাল। প্রতি দেশ থেকে সর্বোচ্চ দুই ক্লাবের সীমা তুলে দেওয়াসহ অংশ নেওয়া ক্লাবের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার কথাও ভাবা হচ্ছে। যাতে এটি পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের ফরম্যাটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
ক্লাব বিশ্বকাপের আগামী আসরগুলোর জন্য বিডিং প্রক্রিয়া চালু করবে ফিফা। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো টেন্ডার আহ্বান ছাড়াই আয়োজক করা হয়েছিল। তবে কাতার, স্পেন ও মরক্কো ২০২৯ সংস্করণ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রিমিয়ার লিগ সমর্থিত ওয়ার্ল্ড লিগস গ্রুপ অভিযোগ তুলেছে যে, ফিফা লিগ ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই সময়সূচি নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে। তবুও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বৈশ্বিক ক্যালেন্ডারে টুর্নামেন্টটির গুরুত্ব আরও বাড়ানোর পথেই হাঁটছে।