য্ক্তুরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের জন্য অস্ত্রবিরতির প্রয়োজন নেই। এই মুহূর্তে দরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদে শান্তির জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। স্থানীয় সময় গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইট হাউজে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ বৈঠক আয়োজন করা হয়। বৈঠকে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররাও উপস্থিত ছিলেন। খবর বিবিসির।
ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন চাইলে যুদ্ধ শেষ করতে পারে। তবে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক যুদ্ধ শেষ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি সবকিছু ঠিকমতো হয় তাহলে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজন করা হবে।
শান্তিচুক্তির জন্য ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্য হওয়ার দরকার নেই উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে ওয়াশিংটন। তাদেরকে খুব ভালো সুরক্ষা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আগ্রহী তার দেশ। কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনায় ইউক্রেনীয়দের সমর্থন আছে।
এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য নয় বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পাশে রেখে এ কথা বলেছেন তিনি।
তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের তিন দিনের মাথায় গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউজে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করছেন ট্রাম্প। জেলেনস্কি ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সোমবার বেলা সোয়া ১টায় হোয়াইট হাউজে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ট্রাম্প। পরে ওভাল অফিসে দুই প্রেসিডেন্ট পাশাপাশি বসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
এক সাংবাদিক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেন, যুদ্ধবিরতি না হলে ভয়াবহ পরিণতি হবে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না যে, আপনার যুদ্ধবিরতি দরকার।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, এটা হলো ভালো। কিন্তু শান্তির জন্য এটা আবশ্যক নয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কৌশলগত কারণে একটি দেশ বা অন্য দেশটি যুদ্ধবিরতি নাও চাইতে পারে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের এই অবস্থান বস্তুত গত শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকের আগের অবস্থান থেকে ভিন্ন। ওই বৈঠকে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে বসে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দ্রুতই তিনি যুদ্ধবিরতি চান। এতে রাজি না হলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছিলেন।
গত শুক্রবার আলাস্কায় প্রায় তিন ঘণ্টা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে তারা শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি।
ওই বৈঠকে কীভাবে এই যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। পরে ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার দখল করা কিছু এলাকা ইউক্রেন ছেড়ে দিয়ে এই যুদ্ধের ইতি টানতে পারে।
এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে তার এই বৈঠক হচ্ছে। এদিন জেলেনস্কি ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন মিত্র দেশ, ইউরোপীয় কমিশন ও ন্যাটোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বসছেন ট্রাম্প।
জেলেনস্কির সঙ্গে বসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, সবার জন্য তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ চান।