ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, আন্তঃঅনুবিভাগীয় সমন্বয় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন এটি কমিশনের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কর্মপরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন তিনি।
আখতার আহমেদ জানান, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ, ফোকাল পারসন মনোনয়ন এবং প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা চেষ্টা করছি আগেভাগেই সব কাজ গুছিয়ে রাখতে।
সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে সচিব জানান, সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে আগামী ২৪ আগস্ট থেকে টানা চার দিন শুনানি শুরু হবে। এরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এনআইডি সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেসব আবেদন বাতিল হয়েছে, অনেকেই পুনরায় জমা দিচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। তবে সারা দেশে সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আমাদের বিশ্বাস, তথ্য এন্ট্রি আরও উন্নত হলে এই সংখ্যা আরও কমে আসবে।’
ভোটকেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানো হবে না উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, এটি মানে এই নয় যে অতীতের সংখ্যাই অপরিবর্তিত থাকবে। যৌক্তিক প্রয়োজন হলে কিছু বাড়ানো হতে পারে। তবে মূলত বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, প্রতি বুথে বর্তমানে ৫০০ ভোটারের ব্যবস্থা রয়েছে। এটি ৬০০ করা হলে অতিরিক্ত কেন্দ্র না বাড়িয়েও ভোটারদের সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
নিবন্ধন প্রত্যাশী ২২ দলের মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, নতুন নিবন্ধনের আবেদন করা ২২টি রাজনৈতিক দলের, প্রাথমিকভাবে যে দলের আমাদের মনে হয়েছে যে মাঠ পর্যায়ে পাঠানো দরকার আমরা সেটা পাঠিয়ে দিয়েছি। আর যাদেরটা বাতিল বা বিবেচনাযোগ্য হয়নি তাদের আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছি যে, এই কারণে এবং এবার আমরা স্পষ্ট করে বলে দেব যে কোন কারণটায় বা কোন শর্তের অপূর্ণতার কারণে তাদেরটা বিবেচনা করা যায়নিÑ সেটা আমরা স্পেসিফিক করে উল্লেখ করে দেব।
এক প্রশ্নের জবাবে সচিব আরও বলেন, নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা তো আরও পরের ব্যাপার। যে যার জায়গাটাকে গুছিয়ে নিলেই তো হয়ে যাবে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আমরা এই মুহূর্তে জড়িত, প্রশাসনের সঙ্গে মাঠে আছেন যারা তারা রেসপেক্টিভ এরিয়াতে কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা আছেন তারা রেসপেক্টিভ এরিয়াতে করছেন। আমাদের ভেতরে একটা যোগাযোগ তো আছেই। আমার মনে হয় না যে এটা নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করার কারণ আছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি জানতে ইসিতে আইআরআই : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি জানতে ইসিতে এসেছে আইআরআই (ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট)। গতকাল বিকেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
বৈঠকের পর আইআরআইয়ের ডিরেক্টর স্টিফেন সিমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকের আমরা কী করতে পারি, তা নিয়ে মূলত আলোচনা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। ইসি তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানিয়েছে। প্রাক-নির্বাচনী পরিস্থিতি মূল্যায়ন নিয়ে ইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সুপারিশ করিনি। আমরা সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কোনো সহায়তাও দিইনি। তবে আমরা দলগুলোকে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। দলগুলোর মধ্যে আন্তঃসংলাপ, নীতিনির্ধারণী সংলাপ, এমন নানা ধরনের কাজ করেছি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখব। আমাদের ঢাকা সফরের উদ্দেশ্যই হচ্ছে কীভাবে দলগুলোকে সহায়তা করা যায়। এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এজন্য ইতিমধ্যে কমিশনের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।’ এ সময় ডেপুটি ডিরেক্টর ম্যাথ্যু কার্টার, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার অমিতাভ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন