পটুয়াখালীর কুয়াকাটা মাছবন্দরে মঙ্গলবার সকালেই ধরা পড়ে বিরল এক দৃশ্য। বাজারে উঠে আসে ২৪ কেজির কোরাল মাছ, যা মুহূর্তেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় টেনে আনে। সুন্দরবন উপকূল থেকে সংগ্রহ করা এই মাছ কিনে আনেন গাজী ফিশের মালিক মো. বশির গাজী। পরে ঢাকার এক পর্যটকের কাছে বিক্রি করেন এক হাজার ৫২০ টাকা কেজি দরে। সর্বমোট দাম দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৯৩৮ টাকা।
বাজারে আনার পর ওজন মাপে দেখা যায়, মাছটির ওজন ২৩ কেজি ৬৫০ গ্রাম। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই বাজারে শোরগোল পড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, দুই দিন আগেও লেম্বুর বন এলাকার জেলে আল-আমিন মাঝির জালে ধরা পড়ে ২৩ কেজি ওজনের একটি কোরাল, যার দাম হয়েছিল প্রায় ৩৪ হাজার টাকা। এ কারণে ধারাবাহিকভাবে বড় কোরাল ধরা পড়ায় মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
মাছটির ব্যাপারে গাজী ফিশের সত্ত্বাধিকারী মো. বশির গাজী বলেন, ‘মূলত এই বড় মাছের চাহিদা কুয়াকাটায় বেশী। তাই আমরা উপকূলীয় এলাকার জেলে এবং বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে মাছগুলো সংগ্রহ করি। আজকে সুন্দরবন থেকে এই মাছটি আমি সংগ্রহ করেছি, চাহিদা থাকায় আবার বিক্রিও করে দিয়েছি, ঢাকার এক পর্যটকের কাছে এক হাজার ৫২০ টাকা কেজি দরে মাছটি বিক্রি করে দিয়েছি।’
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) কুয়াকাটা শাখার সদস্য রাজু জানান, মৌসুমে বড় মাছের জোগান বাড়ে। এ সময় ইলিশের পাশাপাশি কোরালও বেশি ধরা পড়ে। তবে কখনো কখনো রোগ, পেটে ব্যথা, মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকজাত বর্জ্য খাওয়ার কারণে মাছ ভেসেও ওঠে। তার ভাষায়, ‘তবে এমন মাছ এখন তুলনামূলক কম আসে, আরও ৫ থেকে ৭ বছর আগে পাওয়া যেত পরিমাণে বেশি।’
কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘এটি নিষেধাজ্ঞার ফসল, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা সমুদ্রে মাছ শিকার করতে নেমেছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই জেলেদের জালে বড় মাছ ধরা পড়বে। জেলেরা সঠিকভাবে নিষেধাজ্ঞা পালন করেছে বিধায় সামনের দিনগুলোতে তাদের জালে ভালো সংখ্যক মাছ ধরা পড়বে। শুধু কোরাল নয়, ইলিশসহ সামুদ্রিক অন্যান্য সব ধরনের মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়বে বলে আমি আশাবাদী।’