লাল জার্সি বাতিল, নীল অ্যাওয়ে জার্সিতেই মাঠে নামবে ব্রাজিল

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। দুই দশক ধরে তারা বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। বর্তমান অবস্থা আরও খারাপ। এর মাঝে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তাদের জার্সি নিয়ে। গত এপ্রিল মাসে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য স্পোর্টস ব্র্যান্ড নাইকি লাল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি তৈরি করছে। ব্যাপক সমালোচনার পর অবশেষে লাল জার্সির অবস্থান থেকে সরে এসেছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)।

হলুদ জার্সিতেই ব্রাজিলের খেলা দেখে অভ্যস্ত সবাই। নীল জার্সিতে তাদের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতেও দেখা যায়। কিন্তু লাল রঙের জার্সির খবর ফাঁস হতেই বাধে বিপত্তি। কারণ ব্রাজিলে লাল রঙ রাজনৈতিক প্রতীক। এটি ক্ষমতাসীন বামপন্থী দল ওয়ার্কার্স পার্টির রঙ, যার নেতৃত্বে আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর সমর্থকেরা সবসময় রাজনৈতিক সমাবেশে দেশটির ঐতিহ্যবাহী সবুজ-হলুদ ব্যবহার করে থাকেন।

এসব কারণে জার্সির রঙের বিতর্ক দ্রুতই ফুটবল থেকে সরে গিয়ে রাজনীতির অঙ্গনে চলে যায়। বেশ বেকায়দায় পড়ে যায় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। এই প্রেক্ষাপটে সিবিএফের নবনিযুক্ত সভাপতি সামির জাউদ মঙ্গলবার ‘স্পোর্ত টিভি’কে বলেন, ‘আমি লাল জার্সির উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। কারণ অ্যাওয়ে কিটের রঙ নিয়ে মানুষের রাজনৈতিক অবস্থান জড়িয়ে পড়ছে। আমাদের জাতীয় পতাকার চার রঙ—নীল, হলুদ, সবুজ ও সাদা—এইগুলোই জাতীয় দলের পরিচয় বহন করবে।’

জানা গেছে, লাল জার্সির পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল সিবিএফের সাবেক সভাপতি এডনালদো রদ্রিগেসের সময়ে। এবার সামির জাউদের ঘোষণার পর নাইকি ইতোমধ্যেই নতুন অ্যাওয়ে কিট হিসেবে নীল জার্সি তৈরির কাজ শুরু করেছে। খ্যাতিমান ক্রীড়া সাংবাদিক পাওলো ভিনিসিউস কোয়েলো বলেন, ‘লাল জার্সির সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে যখন হলুদ রঙ আগে থেকেই একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক, তখন লাল জার্সি আরও বড় বিভ্রান্তি তৈরি করত।’