কর্মকর্তার আক্রোশের শিকার হয়ে এশিয়া কাপের দল থেকে বাদ মিমোরা

চার সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে হকি এশিয়া কাপের ১৯ সদস্যের দল দিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। যে দলে ঠাঁই হয়নি এপ্রিলে এএইচএফ কাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক পুস্কর খিসা মিমো, নাঈম উদ্দিন, মাঈনুল ইসলাম কৌশিক ও মাহবুব হোসেনের। অথচ ১০ আগস্ট শুরু ক্যাম্পে বাকিদের সঙ্গে ছিলেন তারাও। বাদ পড়ারা জাতীয় দল নির্বাচক কমিটির সদস্য ও ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আবু জাফর তপনের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তপনের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার গুরুতর অভিযোগও করেছেন খেলোয়াড়রা। এ নিয়ে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের কক্ষে মঙ্গলবার ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যদিও গালিগালাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তপন। হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বলেছেন, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

১০ আগস্ট ২৬ খেলোয়াড় নিয়ে শুরু হয়েছিল জাতীয় দলের ক্যাম্প। তখনও অবশ্য নিশ্চিত হয়নি এশিয়া কাপে খেলা। বাংলাদেশ এশিয়া কাপ থেকে আদতে বাদ পড়েছিল গত এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত বাছাই টুর্নামেন্ট এএইচএফ কাপের ফাইনালে উঠতে না পেরে। সেই আসরে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ছিলেন তপন। খেলোয়াড়দের অভিযোগ সেই টুর্নামেন্টের সময় ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার জেরে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে ভারতে এ মাসের শেষে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপের চূড়ান্ত দল থেকে।

এএইচএফ কাপে দলের অধিনায়ক ছিলেন পুস্কর খিসা মিমো। দল থেকে বাদ পড়ার কারণ জানতে মিমোসহ বেশ ক'জন খেলোয়াড় মঙ্গলবার রাতে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের কাছে জান। সেখানে এক পর্যায়ে তপনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন খেলোয়াড়রা। দাবী করেন, এএইচএফ কাপে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিকবার ম্যানেজার তপনের বাদানুবাদ হয়। মিমোর অভিযোগ, 'সবাই এএইচএফ কাপের ব্যর্থতার জন্য খেলোয়াড়দের দায়ী করে। কেন আমরা ব্যর্থ হলাম, সেই কারণ খুজতে গেলে অনেক কিছুই বেড়িয়ে আসবে। ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার দিন বিমানবন্দরে এক ইমিগ্রেশন অফিসার আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন। দলের ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজার সে সময় নিরব ভূমিকায় ছিলেন। এ নিয়ে আমাদের এক খেলোয়াড় ক্ষোভ প্রকাশ করে। ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার পর খেলোয়াড়দের অপ্রতূল খাবার সরবরাহ করা হয়। বারবার অনুরোধ করার পরও খাবারের মান বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ম্যানেজার বিষয়টি পাত্তাই দিচ্ছিলেন না। অধিনায়ক হিসেবে আমাকে দলের দাবী-দাওয়া নিয়ে বারবার তার তর্ক করতে হয়েছে। কয়েকজন সিনিয়রও তাদের দাবীগুলো তুলে ধরেন। এতেই আমরা তপনের শত্রুতে পরিণত হই। তাছাড়া পুরো টুর্নামেন্ট চলাকালে ম্যানেজারের সঙ্গে কোচ, সহকারী কোচদেরও নানা ব্যাপারে বাদানুবাদ হয়েছে। দলের সদস্যদের কেডস কেনা নিয়ে টিম হোটেলের লবিতে কোচের সঙ্গে ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজার ঝগড়া হয়। দেশে থাকাকালীন খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতা ৫০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা করা হয়েছিল। টুর্নামেন্ট চলাবস্তায় দেওয়া হতো ১২ ডলার কয়েক সেন্ট। ঠিকঠাক নাস্তা দেওয়া হতো না। এ সব নিয়ে বলতে গিয়েই খারাপ হয়েছি। তাই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তিনি আমাদের বাদ দিয়েছেন।' এ সব নিয়ে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েই ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা। নাঈমকে তপনের অশ্রাব্য ভাষায় গালির অভিযোগ প্রসঙ্গে মিমো বলেন, 'আমরা সাধারণ সম্পাদকের কাছে বাদ পড়ার পেছনে আমাদের সন্দেহের কথা জানাতে গিয়েছিলাম। একটু পর সেখানে তপন সাহেব আসেন। তিনি এক পর্যায়ে আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং নাঈমকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন। গালি শোনার আমরাও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠি। ফেডারেশনের একজন কর্মকর্তা কোন অবস্থাতেই জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়কে এমন গালি দিতে পারেন না। এ যথাযোগ্য বিচার হওয়া উচিত।'

তপন অবশ্য গালির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন, 'সিনিয়র বা জুনিয়র হিসেবে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, ফিটনেস লেভেল দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিলেকশন কমিটি। যারা দলে আছে, তারা বাদ পড়াদের চেয়ে ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে এগিয়ে। সিনিয়র খেলোয়াড়রা সাধারণ সম্পাদকের কাছে বাদ পড়ার কারণ জানতে চেয়েছিলেন। একটা সময় সেখানে আমি উপস্থিত হই। তাদের সঙ্গে ক পর্যায়ে হয়তো রাগের মাথায় কিছু বলে থাকতে পারি। তবে কোন গালি দেইনি।' সাধারণ সম্পদাক রিয়াজুল হাসান বলেন, 'কথার এক পর্যায়ে যেটা হয় সবাই মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিল। কিছু বাদানুবাদ হয়েছে ঠিক। তবে আমার উপস্থিতিতে কেউ কাউকে ওরকম কোন গালি দেয়নি। তবে যদি কেউ গালি দিয়ে থাকে, সেটা ভালো হয়নি। খেলোয়াড়রা যদি অভিযোগ করে তবে আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখবো।'

অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেলোয়াড়দের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছেন ফেডারেশন কর্তারা। এএইচএফ কাপের দলে দেশসেরা মিডফিল্ডার রাসেল মাহমুদ জিমিকে বাদ দেওয়া হয় অন্যায়ভাবে। এবার বাদ পড়ার তালিকায় উঠলো মিমো, নাঈমদের নাম। বারবার ফেডারেশন কর্তাদের বঞ্চনার শিকার হয়ে বর্তমান কমিটির অপসারণ দাবী করছেন খেলোয়াড়রা।

বাংলাদেশ স্কোয়াড

হুজাইফা হোসেন, রেজাউল করিম (অধিনায়ক), সোহানুর রহমান, ফরহাদ আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, আল নাহিয়ান, রোমান সরকার, ফজলে হোসেন, তৈয়ব আলী, তানভির রহমান, রাকিবুল হাসান, মো. আব্দুল্লাহ, আরশাদ হোসেন, ওবায়দুল হোসেন, বিপ্লব কুজুর, নুরুজ্জামান নয়ন।