এক ফ্রেমে ক্রিকেটের তিন প্রজন্ম

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২১ পিএম

নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য আয়োজিত চ্যালেঞ্জ কাপে নারী লাল দলের বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে নেয় ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৫ দলটি। তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচটির সেরা নৈপুণ্য দেখানো খেলোয়াড় হন আলিমুল ইসলাম আদিব। তার হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দিতে গিয়েই বন্দি হয় মুহুর্তটি। ওয়াহিদুল গণি, মেহরাব হোসেন অপি এবং আদিব, দেশের ক্রিকেটের তিন প্রজন্ম যেন একই ফ্রেমে।

ক্রিকেটের ঈশ্বর শচিন টেন্ডুলকারের যেমন রমাকান্ত আচরেকার, বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলের তেমনি ওয়াহিদুল গণি। ১৯৯৫ সালে ‘অনূর্ধ্ব ১২’র প্রতিভা খোঁজার মধ্য দিয়ে খুদে ক্রিকেটার তৈরির গল্প শুরু তার। ধানমণ্ডি মাঠে তার গড়া অঙ্কুর ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতেই গড়ে ওঠেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস। ক্যারিয়ারে একটি মাত্র আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯৮৮ সালে। দেশের ক্রিকেটে আজীবন ‘লেগস্পিন গুরু’ থেকে যাবেন ওয়াহিদুল গণি।

বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার ঠিক আগে ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ, ত্রিদেশীয় সিরিজে ঢাকা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১১৬ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় দারুণ এক সেঞ্চুরি করে বসেন ওপেনার মেহরাব হোসেন অপি। সেটাই ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোন ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি। আর এই প্রথমের কীর্তি গড়া মেহরাব হোসেন অপি লাল-সবুজের হয়ে খেলেছেন ৯টি টেস্ট ও ১৮টি ওয়ানডে। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট দলের সদস্যও তিনি। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম রান করা ব্যক্তিটিও তিনিই। এখন বিসিবির হয়ে জুনিয়র লেভেল থেকে প্রতিভা বাছাইয়ের কাজে নিয়োজিত আছেন অপি।

কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে উঠে এসেছেন আলিমুল ইসলাম আদিব। বাবা কুতুবজোম অফশোর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, ও মা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুন নাহার। বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেটে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলে। বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনে ইশমা তানজিম ও নিগার সুলতানা জ্যোতিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলার পর এবং ফাহিমা খাতুনকে বোল্ড করেন। পুরোদস্তুর এ স্পিনারই ধস নামিয়ে দেন জ্যোতিদের ইনিংসে। তারই স্বীকৃতি স্বরূপ আদিবের হাতে ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত