গামিনির আশ্রয় মাহবুব আনামও বিসিবি ছাড়ছেন?

১৫ বছর ধরে মিরপুরের রাজা হয়ে ছিলেন গামিনি ডি সিলভা। জঘন্য পিচ বানিয়ে ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে নিয়ে যাওয়ার পেছনে তার অনেক অবদান। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা বারবার প্রতিবাদ করার পরও গামিনি বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছিলেন। কারণ, তার ওপর ছায়া হয়ে ছিলেন বিসিবি পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুব আনাম।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর বেশ কিছু সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে দীর্ঘ ১৫ বছর পর সরিয়ে দেওয়া হয়েছে গামিনিকে। তার বদলে হেড অব কিউরেটর হিসেবে আনা হয়েছে টনি হেমিংকে। বিসিবির প্রতি অভিমানে গত বছর চুক্তির মাঝপথে চাকরি ছেড়ে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান এই অভিজ্ঞ কিউরেটর। তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কান সিন্ডিকেট আছে।

হাথুরুসিংহের পর গামিনিকে সরানোয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেই শ্রীলঙ্কান সিন্ডিকেট অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। এবার মাহবুব আনামের পালা। দেশের একটি গণমাধ্যমকে ক্ষমতাধর এই বোর্ড পরিচালক নিজেই বলেছেন, অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য বিসিবি নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন না। এমনকী বিসিবির কাউন্সিলরও হবেন না। সম্প্রতি তাকে নিয়ে হওয়া বিভিন্ন নেতিবাচক আলোচনাই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। তাছাড়া দুদকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও আছে।

এদিকে মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পরিবেশ-পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং কী ঘটতে চলেছে তা না জানা পর্যন্ত আমি (বিসিবি সভাপতি পদে) নির্বাচনে অংশ নেব না। এখন যা চলছে আমি মনে করি না যে এরও শেষ আছে।’

দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে বেশিরভাগ বোর্ড পরিচালকই হয় পদত্যাগ করেছেন, না হয় দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তবে মাহবুব আনাম যেন এসবের ঊর্ধ্বে। তিনি সব আমলেই টিকে থাকা ক্ষমতাধর বোর্ড পরিচালক। ক্রিকেট পাড়ায় কান পাতলেই শোনা যায়, তার কারণেই প্রবল সমালোচনার মাঝেও হেসেখেলে চাকরি করে গেছেন গামিনি। গ্রাউন্ডস স্টাফ এমনকী ক্রিকেটারদের সঙ্গেও বাজে আচরণ করার সাহস দেখিয়েছেন এই শ্রীলঙ্কান।