পটুয়াখালীর বাউফলে রিপন সিকদার নামে এক ইউপি সদস্যের বসত ঘর ভেঙ্গে মুল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে মুখোশ পরিহিত সাত আট জনের একটি দুর্বৃত্ত দল। এসময় ভাঙচুর চালিয়ে পুরো ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।
বুধবার (২০ আগস্ট) রাত ১টার দিকে উপজেলা কাছিপাড়া ইউপির দেওপাশা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কাছিপাড়া ইউপির দেওপাশা গ্রামের রিপন সিকদার একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট সরকার পতন হলে পুলিশের ভয়ে রাতে বাড়ি থাকেন না। ওই সুযোগে রাত অনুমান ১টার দিকে তার বসত ঘরে হামলা চালায় মুখোশ পরিহিতরা।
প্রথমেই তারা ঘরের মিটার ভেঙ্গে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। পড়ে ঘরের দরজা জানালা ভেঙে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। ভাংচুর চালিয়ে ঘরের যাবতীয় আসবাব, টিনের চালাসহ যাবতীয় সকল মালামাল পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘরের খুঁটি ব্যতিত কোন কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি দুর্বৃত্তরা।
রিপন সিকদারের বসত ঘরে ভাড়াটিয়া মনির সিকদার বলেন, মুখোশ পরিহিত ৭ থেকে ৮ জন যুবকরা ঘরের ভিতর প্রবেশ করে বড় বড় রামদা আমার গলার ওপর ধরে। ওই সময় মাধ্যমিকে পড়ুয়া আমার দুটি সন্তান চিৎকার করে উঠলে ভয়ে তাদের মুখ চেপে ধরে আমার স্ত্রী।
মনির সিকদার আরও জানায়, তারা আমার ও রিপন সিকদারের ঘরের সব মালামাল নেওয়ার পরে ঘরের বেড়া ভেঙ্গে সব পুকুরে ফেলে দেয়।
প্রতিবেশী পুতল পাল (৬৫) জানান, গভীর রাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ওই সময় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিলো। সকাল বেলা দেখি বাড়িটা ভেঙে সব তছনছ করে ফেলেছে। মালেক পুলিশ নাকি এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি এলাকায় মানুষের জমাজমি দখল করে রাতের আধারে।
রিপন সিকদারের স্ত্রী শিউলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় মালেক পুলিশ ও তার দোসররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগে তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলো। দেইনি বলে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
অভিযুক্ত মালেক পুলিশ বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ, আমার স্ত্রীর দুটো কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। এই মুহুর্তে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা কথা বলছে।
বাউফল থানার ওসি আক্তারুজ্জামান সরকার জানান, ঘটনার পর পুলিশের একটি দল সেখানে পাঠানো হয়েছে।