ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় নির্বাচিত হয়েছেন ৪৬২ জন প্রার্থী। ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়ন আছে ৪৭টি। প্রার্থিতা বাদ পড়াদের আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত আপিলের সুযোগ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে এসব তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন।
কেন্দ্রীয় সংসদে ৪০২ জন ছাত্র এবং ৬০ জন ছাত্রীসহ মোট ৪৬২ জন ছাত্র-ছাত্রী ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
১৮টি হল সংসদে ১৩টি পদে বৈধ প্রার্থী মোট ১১০৮ জন। ফজলুল হক মুসলিম হলের ১ জনের স্বাক্ষর ও ফোন নাম্বার না থাকায় তার প্রার্থিতা স্থগিত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-এ অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, যাদের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে তাদের আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে আপিল করতে হবে। উক্ত সময়ের পরে আপিল করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিভিন্ন পদে মনোনয়নের পরিসংখ্যান হলো সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্র ৪৩ জন ও ছাত্রী পাঁচজন, মোট ৪৮ জন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্র ১৮ জন ও ছাত্রী একজন, মোট ১৯ জন। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ছাত্র ২৪ জন ও ছাত্রী চারজন, মোট ২৮ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ১৫ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ১১ জন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক পদে ৯ জন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৩ জন, মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে ১১ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ১৫ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ৯ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১৩ জন, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১১ জন। কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ১১ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ১৫ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১৯ জন এবং সদস্য পদে ২১৫ জন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, ডাকসুতে প্রাথমিক নির্বাচনে ৫০৯টি মনোনয়নের মধ্যে প্রাথমিক তালিকায় নির্বাচিত হয়েছেন ৪৬২ জন প্রার্থী। ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়ন আছে ৪৭টি। যাদের প্রার্থিতা বাদ পড়েছে তারা ২৩ আগস্টের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম বলেছেন, ক্যাম্পাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে। বাইরে মেস বা হোস্টেলে থাকতে তাদের প্রচুর খরচ হয়, যা অনেক পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের চার-পাঁচটি টিউশনি করতে হয়, যা তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে বাধা দেয়। আবার, দেরিতে হলে আসন বরাদ্দ পাওয়ায় ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফল কমে যায়। এতে তারা ভালো চাকরির জন্য আবেদন করতে পারে না। ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দূর করে তাদের পড়ালেখার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায়।
ছাত্রদলের এই ভিপি প্রার্থী বলেন, আমরা এখানে চিরকাল থাকতে আসিনি। আমাদের শুধু একটি পড়ার টেবিল আর মাথার ওপর একটি ছাউনি দরকার, যাতে আমরা পড়ালেখা শেষ করে দেশের নেতৃত্বে দিতে পারি। বড় বড় ভবন আমাদের প্রয়োজন নেই। সামর্থ্য না থাকলে টিনের চালা দিয়েও থাকার ব্যবস্থা করব।
ব্যালটে প্রার্থীর ছবি যুক্তের দাবি ছাত্র অধিকারের : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম ও ব্যালট নম্বরের পাশাপাশি ছবি সংযোজনের দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে একজন ভোটারকে ৪১ জন প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। এত সংখ্যক নাম ও ব্যালট নম্বর মনে রাখা একজন ভোটারের পক্ষে কঠিন। তাই ব্যালট পেপারে অবশ্যই প্রার্থীদের স্পষ্ট ছবি দিতে হবে। নারীদের ক্ষেত্রে তারা যেন নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী ছবি দিতে পারেন, সেই সুযোগ রাখতে হবে। প্রার্থীদের ছবি যুক্ত না হলে একই নামে একাধিক প্রার্থীর কারণে ভোটাররা বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন।