আজ সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে নাট্যদল প্রাচ্যনাটের মঞ্চনাটক ‘পুলসিরাত’। ফিলিস্তিনি লেখক ঘাসান কানাফানির ‘মেন ইন দ্য সান’ উপন্যাস অবলম্বনে নাটকটি অনুবাদ করেছেন মাসুমুল আলম, নাট্যরূপ দিয়েছেন মনিরুল ইসলাম রুবেল ও নির্দেশনায় কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন। পুলসিরাত প্রাচ্যনাটের ৩৫তম প্রযোজনা। প্রাচ্যনাট জানিয়েছে, নাটকের গল্প ভাগ্যবিড়ম্বিত তিনজন মানুষকে ঘিরে। আগস্ট মাসের প্রচণ্ড গরমে, রোদে পুড়ে মরুভূমির পথে একটি লরি এগিয়ে যায়। তিনটি ভাগ্যবিড়ম্বিত জীবন ছুটে চলে স্বপ্নময় এক নতুন সচ্ছল জীবনের প্রত্যাশায়। নাটকটির গল্পে দেখা যাবে, আবু কায়েস তার দুই সন্তান ও এক স্ত্রী রেখে বন্ধুর পরামর্শে নতুন এক সচ্ছল জীবনের সন্ধানে কুয়েত পাড়ি দিতে চান। তার স্বপ্ন তার সন্তানরা স্কুলে পড়াশোনা করতে পারবে। নরম ও ভীতু স্বভাবের আবু কায়েসের বিপরীত চরিত্র আসাদের। সে এর আগেও সীমান্ত পার হয়ে অবৈধ পথে কুয়েত যেতে চেষ্টা করেছিল। নিশ্চিত ও উন্নত ভবিষ্যৎ, চাচাতো বোনকে বিয়ে করার স্বপ্ন আবার একই সঙ্গে চাচার করা অপমান তাকে তাড়িত করে। অন্যদিকে ষোলো বছরের মারওয়ান স্কুলের পড়াশোনা ছেড়ে নিজের পরিবারের দায়িত্বের চাপে পাড়ি দিতে চায় স্বপ্নের কুয়েতে। নিজের বড়ভাই কুয়েত থাকে। সেখানে সে কাজ করে দেশে পরিবারের জন্য টাকা পাঠাত। কিন্তু বিয়ে করে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেয়। মারওয়ান তাই পরিবারকে বাঁচাতে অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিতে চান কুয়েত। তারা সবাই ঘটনাক্রমে আবুল খাইজুরানের শরণাপন্ন হয়। আবুল খাইজুরান একজন পানিবাহী ট্যাংক লরির ড্রাইভার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সে ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করেছেন। আবার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গেও কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন।
খাইজুরানের জন্য সেটি কোনো কষ্টকর কিছু নয়। আগস্ট মাসের প্রচণ্ড গরমে রোদে পুড়ে মরুভূমির পথে লরিটি এগিয়ে যায়। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকটির গল্প।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন আজাদ আবুল কালাম, শাহরিয়ার সজীব, মনিরুল ইসলাম রুবেল ও সাইফুল ইসলাম জার্নাল। সেট ডিজাইন করেছেন শাহীনুর রহমান, সংগীত পরিকল্পনায় নীল কামরুল এবং আলোক পরিকল্পনায় বাবর খাদেম।