সাড়ে পাঁচ কোটি বৈধ ভিসাধারীর তথ্য যাচাই শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসাধারী প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ বিদেশি ব্যক্তির তথ্য নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়ে বলেন, এখন যেসব বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তাদের সবার তথ্যই খতিয়ে দেখা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করার মতো অভিবাসনের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেছে কি না, বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করছে কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। 

এদিকে দুদিন আগেই দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) দপ্তর নতুন এক নীতি ঘোষণা করেছে। এর আওতায় ভিসা আবেদনকারীদের ‘আমেরিকাবিরোধী’ মনোভাব বা কার্যকলাপ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, মন্তব্য, অন্যান্য কার্যক্রমও বিশ্লেষণ করা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অভিবাসীদের দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। শুধু অবৈধ নয়, বৈধভাবে থাকা অভিবাসীরাও তার প্রশাসনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রথমে ট্রাম্প প্রশাসন বলেছিল, তারা শুধু বিপজ্জনক অপরাধীদের ধরতে অভিযান চালাবে। কিন্তু এখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০২৫ সালে প্রায় চার লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে।

কর্র্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই রেস্তোরাঁ, নির্মাণস্থল, খামারে গিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি অভিবাসন এজেন্টরা নানা আইনি সহায়তার জন্য আদালতে যাওয়া অভিবাসীদেরও আটক করছে।

দেশটির সরকার মানবিক ভিসা আর অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদাও কমানোর চেষ্টা করছে। আগে এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পেতেন।

বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসাধারীরাও বাদ যাচ্ছেন না। চলতি বছরের এই কয় মাসেই ছয় হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সরকারের দাবি, তারা আইন লঙ্ঘন করেছে বা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেছে। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, শুধু ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা স্বাধীন মতামত প্রকাশ করার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেননি এমন কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। গত জুনে ঘোষণা দেওয়া হয়, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীদের আমেরিকার সংস্কৃতি, সরকার, বা মূলনীতির প্রতি বিরূপ মনোভাব আছে কি না, তা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো যাচাই করবে।

বৃহস্পতিবার মার্কো রুবিও বলেন, ‘আপাতত বিদেশি ট্রাকচালকদের জন্য কোনো কর্মভিসা দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বিদেশি চালকরা ‘মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছেন এবং স্থানীয় চালকদের কাজ নষ্ট করছেন।’

এদিকে বার্তা সংস্থা এপির এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সব ভিসাধারীর ওপর সব সময় নজর রাখা হয়। যদি দেখা যায়, কেউ ভিসার নিয়ম ভেঙেছে বা ভিসার যোগ্য নন, তাহলে তার ভিসা বাতিল করা হবে। আর তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, তবে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে তার মধ্যে আছেÑ ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করা।

এদিকে অভিবাসন নীতি কঠোর করার সমালোচনাও আছে। ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ইয়েনি লিলি লোপেজ বলেন, ‘এই নীতি গৎবাঁধা বিশ্বাস ও পক্ষপাতকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আবেদনকারীদের এখন আমেরিকার মানদণ্ড পূরণের জন্য আরও বেশি প্রমাণ দিতে হবে।’

অনেকে বলছেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শিক্ষা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ৪০ বিলিয়ন ডলারের অবদান রেখেছে। নতুন নীতির ফলে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদন হ্রাস পেলে এই অবদান কমে যেতে পারে।