হরিরামপুরে পদ্মার ভাঙনে খোলা আকাশের নিচে শতাধিক পরিবার

পদ্মার ভাঙনে আজ দিশেহারা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ। তাদের একটাই আর্তনাদÑ ‘পদ্মা ভাঙন থামাও, বাঁচাও আমাদের জীবন ও আশ্রয়’। হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ি ও আজিমনগর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা ইতিমধ্যে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যতটুকু জায়গা টিকে ছিল, সেগুলোর বড় অংশও আজ ভাঙনের মুখে। প্রতিদিনই নদীর পেটে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জনপদ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এখানকার হাজারো মানুষ। নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে শতাধিক পরিবার।

যতটুকু জায়গা টিকে ছিল, সেগুলোর বড় অংশও আজ ভাঙনের মুখে। প্রতিদিনই নদীর পেটে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জনপদ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এখানকার হাজারো মানুষ। নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে শতাধিক পরিবার।

গত রবিবার ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মার তীব্র ভাঙনের কারণে বিশেষ করে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীতে চলে গেছে।

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল গাজী বলেন, ‘আমাদের শেষ সম্বল, বাপ-দাদার ভিটেমাটিটুকুও পদ্মায় চলে গেছে। এখন আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’

একই এলাকার নদীর পাড়ের বাসিন্দা লিপি আক্তার বলেন, ‘আমরা কোনো রিলিফ চাই না, ত্রাণ চাই না। সরকারের কাছে একটাই দাবি, আমগো যা আছে, এটুকু জানি আর গাঙ্গে না যায়, তার জন্য আমরা স্থায়ী একটা বাঁধ চাই।’

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজি আব্দুল হান্নান মৃধা বলেন, ‘একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি অবহিত করেছি। কিন্তু এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছেন। আমরাও চেষ্টা করছি অসহায় মানুষগুলোর পাশে থাকার।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনূর আক্তার বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আমি অবগত আছি। ইতিমধ্যে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, শিগগিরই ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।