ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চর ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে ‘বাণিজ্য’ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় প্রকাশের পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
জন্মনিবন্ধন করার ক্ষেত্রে নাগরিক যে ইউনিয়নের বাসিন্দা সেখান থেকেই জন্মনিবন্ধন তৈরি করবেÑএটাই সরকারি বিধিবিধানে রয়েছে। সরকারি এ নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চর ইসলামপুর ইউপি সচিব আমিনুল ইসলাম অবৈধ পন্থায় অন্য ইউনিয়নের লোকজনদেরকে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিয়ে অর্থ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন।
চর ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য জানান, এ পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলাম আসার পর জন্মনিবন্ধন বাণিজ্য চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি ইউনিয়নের মানুষদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। আবার তাকে কিছু টাকা দিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে। চেয়ারম্যানে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তিনি মারাত্মক অন্যায় করেছেন।
এ ব্যাপারে ইউপি সচিব আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে তিনি ইউনিয়নের বাইরেও কিছু লোকদের জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে চর ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ইমাম হোসেন বলেন, ‘সচিব নানাভাবে জন্মনিবন্ধন করে যাচ্ছে। সম্প্রতি কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের একজনের জন্মনিবন্ধন আমার পরিষদ থেকে তৈরি করে দেন। উপজেলা নির্বাচন অফিসে কাজ করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। তখন আমি সচিবকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছি যেন ইউনিয়নের বাইরে ভুয়া কোনো জন্মনিবন্ধন না করেন। কিন্তু তিনি কিছুতেই থামছে না।’ তিনি দাবি করেন, অগোচরে সচিব তার স্বাক্ষর জালজালিয়াতি করে অন্য এলাকার মানুষদের জন্মনিবন্ধন বানিয়ে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি মৌখিকভাবে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি লিখিত অভিযোগও দিবেন।