রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের (৭৬) চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন দেশটির আদালত। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) পুলিশের মুখপাত্র এফইউ উটলার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উটলার রয়টার্সকে বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট রানিল বিক্রমাসিংহেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত রিমান্ডে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।’
সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি ২০২৩ সালে কিউবায় অনুষ্ঠিত জি-৭৭ সম্মেলন থেকে ফেরার পথে যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরে বিক্রমাসিংহে ও তার স্ত্রী ওলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শ্রীলঙ্কার পুলিশের দাবি, এটি ছিল একটি ব্যক্তিগত সফর, যার ব্যয় বহন করেছে রাষ্ট্র। তবে বিক্রমাসিংহে এমন অভিযোগ বরাবরই নাকচ করে দিয়েছেন।
তবে তার দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলটির সদস্য নিশান্তা শ্রী ওয়ারনাসিংহে বলেন, ‘রানিল বিক্রমাসিংহে কখনো রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহার করেননি। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি দেশের অর্থনীতি যখন ধ্বংসের পথে, তখন দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশকে উদ্ধার করেছিলেন। আজ তাকে এইভাবে অপমান করা হচ্ছে।’
রয়টার্স বলছে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিক্রমসিংহে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় তিনি ক্ষমতায় আসেন, যখন জনগণের বিক্ষোভে তার পূর্বসূরি গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
বিক্রমাসিংহেকে দেশটিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে ফেরানোর জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসা করা হয়। তিনি ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু করে ছয়বার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, রনিল বিক্রমাসিংহে শ্রীলঙ্কার প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি তার চাচা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুনিয়াস জয়াবর্ধনের অধীনে দেশের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হন। ১৯৯৪ সালে দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।