সুন্নিপন্থী তিনটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে নতুন নির্বাচনী জোট হিসেবে ‘সম্মিলিত সুন্নি জোট’ এর ঘোষণা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ৩০ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হবে। এর প্রাক প্রস্তুতি হিসেবে শনিবার (২৩ আগস্ট) সুন্নিপন্থী তিনটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে একক কমিটি ঘোষণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি এই জোট ঘোষণার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের জাতীয় কাউন্সিলে তিন দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। কাউন্সিলে শায়খুল হাদীস কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফীকে চেয়ারম্যান, আল্লামা আবুল কাশেম নূরীকে নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ড. আবদুল্লাহ আল মারুফকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। এর আগে সুন্নিপন্থী পৃথক তিনটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের শীর্ষ নেতারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে স্ব স্ব কমিটি বিলুপ্ত করেন।
ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা নতুন জোটের শরীক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের সুন্নি জনতার দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতির মাঠে সুন্নি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে আনার প্রক্রিয়া বেশ আগেই আমরা শুরু করেছিলাম। এর প্রাথমিক কাজ হিসেবে তিনটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছি। আগামী ৩০ আগস্ট আমরা সুন্নিপন্থী দলগুলো নিয়ে জোট ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছি। আশা করছি আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই জোট সারাদেশের সুন্নি জনতার সমর্থন অর্জনে সক্ষম হবে।
জোটের আরেক শরীক দল ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদীন জুবাইর এ প্রতিবেদককে বলেন, সুন্নি রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের পাশাপাশি আমরা ত্বরিকতপন্থী বিভিন্ন দরবারগুলোকেও ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। আমরা আশা করছি, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের একক কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমাদের ঐক্যের যে যাত্রা শুরু হয়েছে তা দেশের দেশের রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সকল সুন্নি সংগঠনে ঐক্যের সুবাতাস বয়ে আনবে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, নতুন এই জোটে একক কোন নেতৃত্ব থাকবেনা। তিন রাজনৈতিক দলের ছয় শীর্ষ নেতার সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এর যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সুন্নি আকিদার অনুসারী রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে জোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনা ফলপ্রসু হলে জোটভূক্ত দলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে, আগামী নির্বাচনে জোটভূক্ত দলগুলোর আসন ভাগাভাগি কিংবা কোন প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবে সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।
দেশে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত বেশ ক’টি সুন্নিপন্থী রাজনৈতিক দল থাকলেও অতীতের কোন নির্বাচনে তারা পৃথক পৃথকভাবেই বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। যে কারণে কোন দলই ভোটের ফলাফলে আশানুরূপ কোন অর্জন দেখাতে পারেনি। এই প্রথমবারের মতো এসব দল রাজনৈতিক জোটবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ১৯৯০ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে দলটি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়। মোমবাতি প্রতীক নিয়ে একাধিক জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নেয়। ২০০৪ সালে দলের বৃহৎ একটি অংশ বের হয়ে ‘ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে। ২০০৮ সালে দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয় তারা। অন্যদিকে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি বিএসপি ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন লাভ করে এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে।