তিস্তা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে তিস্তাপাড়ের পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কারও কারও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে ঘর ভেঙে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছে অনেক পরিবার।
গত ১৭ আগস্ট বিকেলে তিস্তার ভাঙনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখরিবাড়ি ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই ও খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের পূর্ব বাইশপুকুর এলাকায় অনেক ফসলি জমি ও ২৫ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
১৭ আগস্ট সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা ব্যারেজের উজানের খগাখরিবাড়ি ইউনিয়নের কিছামত ছাতনাই এলাকায় তিস্তা নদী বাম দিকে সরে গিয়ে ভাঙতে ভাঙতে ফসলি জমি ও বসতভিটা বিলীন করছে। সেখানে ১০টি পরিবার বাধ্য হয়ে নিরাপদে সরে গেছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।
অন্য দিকে তিস্তা ব্যারেজের ভাটির দিকে ডিমলা উপজেলার খালিশাচাঁপানী ইউপির চেয়ারম্যান সহিদুজ্জামান সরকার জানান, পূর্ব বাইশপুকুর এলাকায় তিস্তা ডান দিকে এসে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি করেছে। ১৫ পরিবার নিরাপদে সরে গেলেও অনেক ফসলি জমি তিস্তায় বিলীন হয়েছে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার পাঁচ বিঘা জমিতে দুই দফায় ধান লাগিয়েছিলাম। বন্যার পানিতে সব শেষ। নতুন করে চারা কেনার মতো টাকাও নেই। এভাবে আর কত বছর এই তিস্তার বন্যার কষ্ট নিয়ে বাঁচতে হবে?’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তা নদী হঠাৎ করে তিস্তা ব্যারেজের উজানে বামতীরে ও ভাটির পূর্ববাইশপুকুর মৌজায় গতিপথ পরিবর্তন করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর স্রোত প্রচ- বেড়েছে। আমরা ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সেখানে বাঁশ, গাছের গুঁড়ি দিয়ে পাইলিং, জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্য দিকে নীলফামারীর পার্শ^বর্তী লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আবাদি জমি তিস্তার ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। দক্ষিণ ভোটমারী ও সিন্দুর্না, মহিষখোচার চরাঞ্চলে প্রতিদিন জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ফসলি জমির ক্ষতি ফুটে উঠছে। পাশাপাশি ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, এখন রোপণের জন্য বীজই নেই। সিন্দুর্না গ্রামের সফুরা বেগম বলেন, ‘তিস্তা আমাদের সব শেষ করে দিল। ক্ষেত গেল, ঘর গেল, মাছ গেল। ত্রাণ দিয়ে তো একদিন চলে, আমাদের চাই স্থায়ী বাঁধ।’
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।